৭ উপজেলার ৬টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৫৯ এএম, ১৭ মার্চ ২০১৯

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে মিরসরাই ও রাউজানে সবগুলো পদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে গেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ ছাড়া আরও চারটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে শুধু ফটিকছড়ি উপজেলায়।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে আগামীকাল উত্তর চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, সন্দ্বীপ, রাউজান উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬ উপজেলা আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মিরসরাই, রাউজান ও আনোয়ারা উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নির্বাচিত হয়ে গেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। তাই এসব উপজেলায় নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হবে না। এর বাইরে হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদের প্রাথীরাও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এসব উপজেলায় শুধুমাত্র ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রামে উপজেলা নির্বাচনের এই যখন অবস্থা তখন ভোটাররা বলছেন, ‘এ নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুরের বাসিন্দা জানে আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখানে কোনো ইলেকশন হচ্ছে না। সিলেকশন হচ্ছে। ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাই প্রচারণা চালাতে পারছেন। তাই এ ভোট নিয়ে এলাকায় কোনো আমেজ নেই।’

এত বেশি সংখ্যক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে তৃণমূলে। তারা বলছেন, এমন নয় যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কেউ নেই। এখানে ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও নির্বাচনের মাঠে টিকতে দেয়া হচ্ছে না। অনেকে জোড় করে প্রত্যাহারপত্রে সই নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

তাদেরই একজন পটিয়া উপজেলার পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে জানান, ‘৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি আন্দরকিল্লা দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে মফিজুর রহমান তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা শেষ হলে মফিজুর রহমান বেরিয়ে যান। এরপর মুহূর্তের মধ্যে ১০-১২ জন যুবক দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করেন।’

অবশ্য পরে রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামাল উদ্দীন জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়নি। তবে পটিয়াসহ চট্টগ্রামের অধিকাংশ উপজেলায় নানা কায়দায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে দূরে সরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। শুধুমাত্র ফটিকছড়িতে তিন প্লাটুন বিজিবি, ১৫শ’ পুলিশ সদস্যসহ ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা জাগো নিউজকে জানান, ফটিকছড়িতে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশের ১৫শ’ ফোর্স থাকবে। ৩ প্লাটুনের মতো বিজিবি থাকবে। র‌্যাবের টিম, আনসার সদস্য ছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও দায়িত্ব পালন করবেন।

চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান বলেন, ‘ব্যালট পেপার, সিল, অমোচনীয় কালি, মার্কার পেনসহ সকল নির্বাচনী সামগ্রী আগেভাগেই পৌঁছে গেছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাও আজ (রোববার) এলাকায় এলাকায় চলে যাবেন। নির্বাচনে বিজিবির টহল দলের সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাবের ফোর্স, পুলিশ ও আনসারের পর্যাপ্ত ফোর্সের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।’

এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।