বাসচালককে পিটিয়ে হত্যা, চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৯

চট্টগ্রামে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয়ে শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক জালাল উদ্দিনকে (৫০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে চট্টগ্রামের শ্রমিক সংগঠনগুলো। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৬৮টি আন্তঃজেলা ও ১৯টি স্থানীয় রুটে একসঙ্গে ২৪ ঘণ্টা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫ জেলায় আরও ২৪ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের আওতায় থাকবে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথসভা শেষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বাসচালককে হত্যার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা শুধুমাত্র যাত্রীবাহী পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে দেশের অন্যান্য জেলায় চলা ৬৮টি রুট এবং আরাকান সড়ক সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৯টি রুটে এই পরিবহন ধর্মঘট চলবে। এছাড়া রোববার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় পণ্য ও যাত্রীবাহী পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে।’

এদিকে পরিবহন শ্রমিক নেতারা আল্টিমেটাম দিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনা হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শ্যামলী পরিবহন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত ৮টায় পরিবহন সার্ভিসটির যাত্রীবাহী একটি বাস কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট পার হয়ে শিকলবাহা (ভেল্লাপাড়া) ব্রিজ এলাকায় আসে। এ সময় ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে আনুমানিক ৭ জন পুরুষ বাস থামান। এরপর তারা বাসে উঠে তল্লাশি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে তারা ড্রাইভারকে হাতকড়া পরিয়ে বাস থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। পেটাতে পেটাতে আবারও তাকে বাসের ভেতরে এনে ইয়াবা বের করে দিতে বলে। ড্রাইভার তার কাছে কোনো ইয়াবা নেই জানালে ক্ষুব্ধ ডিবি সদস্যরা তাকে আবারও নামিয়ে রাস্তার পাশে অন্ধকারের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়, রাস্তায় ফেলে লাথি মারা হয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে বাসের ভেতরে ফেলে ডিবি সদস্যরা দ্রুত চলে যায়। রাত আড়াইটার দিকে ড্রাইভার জালালকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :