জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মানুষের তৈরি বিপর্যয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০২১

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবকে ‘মানুষের তৈরি বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, বিশ্বনেতারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে শঙ্কিত হলেও প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ে শঙ্কিত নয়ে। কাগজে-কলমে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও প্লাস্টিক পণ্যের এখনো যত্রতত্র ব্যবহার চলছেই।

শনিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামসহ (নাসফ) ১৭টি পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব কথা উঠে আসে।

মানববন্ধনে মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের মহাসচিব মাহবুবুল হক বলেন, আমরা আমাদের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে পারি। প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এর ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আমরা পাটশিল্পকে ধ্বংস করে পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট একটি বিপর্যয়। বিশ্বনেতারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যতটা শঙ্কিত, প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ে ততটা নন।

সুবন্ধন সামাজিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, পলিথিন ব্যবহার কাগজে-কলমে নিষিদ্ধ হলেও এটার ব্যবহার থেমে নেই। কারণ, এখানে অবশ্যই সরকারের কোনো লাভ আছে। যদি তাই না হতো তাহলে সরকার কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না। আমাদের পাটশিল্প ধংসের মুখে, পাটশিল্পকে উজ্জীবিত করে পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হোক, সরকারের কাছে আমাদের এই আবেদন।

বক্তারা পলিথিন নিষিদ্ধের আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের জোরালো ভূমিকা পালন, পলিথিন শপিং ব্যাগ ও ব্যাগের উৎপাদন-ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

একইসঙ্গে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ, কাপড়ের ব্যাগ, কাগজের ব্যাগ ও ঠোংগা ইত্যাদি সহজলভ্য করা এবং এগুলো ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা, বন্ধ লাইসেন্সের মাধ্যমে আমদানি করা পলি প্রোপাইলিন পলিথিন শপিং ব্যাগ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয় মানববন্ধন থেকে।

এছাড়া প্লাস্টিক পণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, পরিবেশ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, প্লাস্টিক পণ্য বর্জন ও প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় সরকার বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধিরও দাবি জানানো হয়।

নাসফ সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এস সিদ্দিক আলী বলেন, ততদিন পলিথিন ব্যবহার বন্ধ হবে না, যতদিন আমি নিজে না বলবো- ‘আমি আর পলিথিন ব্যবহার করবো না’। নিজে বলার আগ পর্যন্ত প্লাস্টিকের ছড়াছড়ি বন্ধ হবে না। পাড়া-মহল্লা, অলিগলিতে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষকে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিকগুলো ভালোভাবে বোঝাতে হবে। সরকারের প্রতি আহ্বান, মেইন সুইচ অফ করে দেন, প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন- তাহলে সব বন্ধ হয়ে যাবে।

মানববন্ধনে নাসফের সহ-সম্পাদক হাসিনা আরিফ, গ্রিনফোর্সের প্রতিনিধি আরিফ, ট্যারিস্ট সাইক্লিস্টের মো. সেলিম, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের আমিনুল ইসলাম টুকুসহ ১৭টি সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমকেআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।