চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের সময় বাড়লো

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৯ পিএম, ২৮ জুন ২০২২
যশোর জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন/ ফাইল ছবি

দেশের ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাপ্তরিক স্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে জনসাধারণের সেবার মান উন্নত করা। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দাপ্তরিক সুবিধাদি বৃদ্ধি ও সহায়ক কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করা। দুই হাজার ২৬০ কোটি ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে আইন ও বিচার বিভাগ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পসহ মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ১১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক হাজার ৮৭৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ও বৈদেশিক অর্থায়ন ৩৪১ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত মূল অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৭১৩ কোটি ৬৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এর পরে প্রথম সংশোধিত ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৮৭০ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ২য় সংশোধিত প্রকল্পে মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ৩৮৮ কোটি ২৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। বিশেষ সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে হয় দুই হাজার ৪৬৪ কোটি ৬০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। তবে ৩য় সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ২৬০ কোটি ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি ফেব্রুয়ারি ২০০৯ হতে জুন ২০১৪ মেয়াদে বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল। এখন প্রকল্পের মেয়াদ বেড়ে জুন ২০২৩ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।

প্রধান কার্যক্রম: ৪৩ দশমিক ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ, ৫ দশমিক শূন্য ৫ লাখ বর্গমিটার ভবন নির্মাণ, ১২ হাজার ৪১৫ দশমিক ৭৮ রানিং মিটার ড্রেন ও অ্যাপ্রোন, ১৩ হাজার ৪৩০ রানিং মিটার সীমানা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ৮৭ হাজার ২০ বর্গমিটার কম্পাউন্ড রোড, কার পার্কিং ও কালভার্ট নির্মাণ, ২ দশমিক ৫২ লাখ ঘনমিটার সাইট উন্নয়ন, ১২৬টি প্যাসেঞ্জার লিফট, ৪১টি সাব-স্টেশন, ৪১টি জেনারেটর (১০০ থেকে ১৫০ কেভিএ), ৪১টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কেনা হবে। ৭৯৫টি এজলাস ও কাঠগড়া স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট আসবাবপত্র কেনা, ৫০৪টি এজলাসের গ্লাস পার্টিশন স্থাপন এবং ৩টি গাড়ি ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কাজ করা হবে।

প্রকল্প সংশোধনের কারণ: ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, দরপত্র সংক্রান্ত মামলা, নেত্রকোনা জেলায় চিফ জুডিসিয়াল আদালত ভবন নির্মাণ বাদ দেওয়া, পাহাড়ী এলাকার জন্য স্বতন্ত্র নকশা, ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ বাদ দেওয়া ও এজলাসের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। গ্যারেজ নির্মাণ, গ্লাস পার্টিশন স্থাপন অন্তর্ভুক্তি, অতিরিক্ত ৩০ হাজার গ্যালন ভূ-গর্ভস্থ জলাধার নির্মাণ, রাস্তা ও সীমানা প্রাচীরের ব্যয় বৃদ্ধি, একটি নতুন জিপ গাড়ি ক্রয়ের সংস্থান এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধির কারণে সংশোধন করা হয়।

এমওএস/কেএসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]