‘ঢাকার সব বাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে’
গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় চলাচল করা ১০৮টি বাসে সিসি ক্যামেরা স্থাপন হয়েছে।
রোবাবর (১৬ অক্টোবর) গাবলতীর সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনভেনশন সেন্টারে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রধান অতিথি হিসেবে গণপরিবহনে সিসি টিভি স্থাপন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘গণপরিবহনে নারীর নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি’র আওতায় উদ্বোধনী দিনে চন্দ্রা-ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার রুটের রাজধানী সুপার সার্ভিস লিমিটেডের ২৫টি, গাবতলী-গাজীপুর রুটের বসুমতি ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের ২৫টি, মোহাম্মদপুর-আবদুল্লাহপুর রুটের প্রজাপতি পরিবহন লিমিটেডের ২৫টি, ঘাটারচর-আব্দুল্লাহপুর রুটের পরিস্থান পরিবহনের ২৫টি এবং গাবতলী-সায়েদাবাদ রুটের গাবতলী এক্সপ্রেসের ৮টি বাসে প্রাথমিক পর্যায়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারের অর্থায়নে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি সংস্থা দিপ্ত ফাউন্ডেশন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, সিসি টিভি স্থাপনের মাধ্যমে গণপরিবহন নারীবান্ধব ও নিরাপদ হবে। নারীরা সিসি ক্যামেরা সংযুক্ত বাসে উঠতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। সিসি ক্যামেরা থাকায় এসব বাসের সাধারণ যাত্রীরাও সতর্ক থাকবে এবং তাদের মাঝে সচেতনতা তৈরি হবে। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে সব বাসে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে নারীরা ৯৯৯ ও ১০৯ এর মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। হয়রানি বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে সিসিটিভির ফুটেজ আদালতে আলামত ও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নারীবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে আজ শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে নারীর পদচারণা বহুগুণ বেড়েছে। এর ফলে নারীকে প্রতিদিন কর্মস্থলে ও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে হয়। নারীরা গণপরিবহনের মাধ্যমে স্বল্প খরচে কর্মস্থল ও নিজ নিজ বাসস্থানে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু নারীদের জন্য সরকারের এত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের পরও গণপরিবহনে নারীর প্রতি যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে। গণপরিবহনে যাতায়াতকালে নারীরা অসম্মানজনক আচরণেরও শিকার হচ্ছে। যার ফলে সভ্যতার এ যুগে নারীরা চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে। এসব ঘটনা তাদের স্বাধীন চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে। গণপরিবহনে এশিয়ার অন্যান্য দেশের নারীরা নিপীড়নের স্বীকার হয়ে থাকে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বাস চালু করেন। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের সব গণপরিবহন নিরাপদ ও নারীবান্ধব করে তুলছেন। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকে। নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
তিনি বাস মালিক সমিতির উদ্দেশ্যে বলেন, চালকদের নিয়োগদানের পূর্বে তাদের সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে, যেন তারা অপরাধ করলে দ্রুত শনাক্ত করা যায়। যাত্রীদের সঙ্গে গাড়ির চালক ও স্টাফদের উত্তম আচরণ কেমন হবে, সে ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আগা খান মিন্টু। স্বাগত বক্তব্য দেন দিপ্ত ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া কে হাসান। এসময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাসচালক, স্টাফ, হেলপার, যাত্রীসহ পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, নারীরা এগিয়েছে বলেই আজ বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাসে সিসি টিভি স্থাপনের মাধ্যমে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় অন্যন্য ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
আইএইচআর/ইএ/জেআইএম