মানবসভ্যতা উত্থানের সঙ্গে ধ্বংসেও নিয়ামক জ্বালানি: তাপস
মানবসভ্যতা উত্থানের জন্য জ্বালানি ব্যবহার হয়, আবার সভ্যতাকে ধ্বংস করার জন্য জ্বালানি নিয়ামক ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।
তিনি বলেন, জ্বালানির সঙ্গে সবকিছু সম্পৃক্ত। জ্বালানি দিয়ে করবোটা কী,জ্বালানি কী কাজে লাগে, কী কী কাজে লাগানো যায়, মানবসভ্যতায় জ্বালানির কী প্রভাব? জ্বালানির প্রভাবের কারণে আজ মানবসভ্যতা এ পর্যায়ে এসেছে। আবার জ্বালানির কারণে সারা পৃথিবীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা বিরাজমান।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত সাসটেইনেবল এনার্জি উইকের সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘সাসটেইনেবল এনার্জি পলিসি অ্যান্ড আওয়ার লাইভলিহুড’ শীর্ষ সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইনস্টিটিউট।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ভেনেজুয়েলা, নাইজেরিয়া জীবাশ্ম জ্বালানিতে (ফসিল ফুয়েল) ভরপুর। কিন্তু ভেনেজুয়েলা একটি দেউলিয়া রাষ্ট্র, নাইজেরিয়া একটি দেউলিয়া রাষ্ট্র। সম্পদ থাকলেই সেই সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে- এর নির্দিষ্ট কোনো নমুনা কিংবা ফর্মুলা নেই। আবার দেখি সৌদিআরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো জ্বালানির ওপর ভর করে কত বড় উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এসব নমুনা আমাদের যাচাই বাছাই করতে হবে, আমাদের এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কেউ একজন উন্নত হলো, কেউ একজন কেন দেউলিয়া হলো- সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।
তিনি বলেন, পানিও জ্বালানি, সৌর শক্তিও জ্বালানি, বায়ু সেটাও জ্বালানি। আবার ইউরেনিয়াম (পারমাণবিক) সেটাও জ্বালানি, কয়লাও জ্বালানি, সারাদিন আমি যেটা পরিষ্কার করি; আমরা -আপনারা তৈরি করি সেই বর্জ্যটাও জ্বালানি। এসব জ্বালানি কীভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন সেটা আমাদের জানতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি বেশি ব্যবহার করার কারণে আমরা (ঢাকা) বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ বায়ুদূষণের শহরে পরিণত হয়েছি। ধুলা সহ্য করা যায় না, অথচ লেড এবং ম্যাগনেসিয়াম প্রতিনিয়ত নিচ্ছি সেটাতো কেউ খেয়াল করছি না।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র আরও বলেন, বাংলাদেশে যে তেল আসে, ডিজেল আসে- সেই ডিজেল, তেল কতটা বিপজ্জনক। প্রতিদিন বায়ুদূষণের সূচকে সবার উপরে থাকার পরেও আমাদের উপলব্ধি আসছে না। উপলব্ধি আসছে শুধু ধুলাটা, যে ধুলাটা আমাদের বিরক্ত করছে। কিন্তু বায়ুদূষণের আশি ভাগ কারণ হলো জীবাশ্ম জ্বালানি। আমরা যে তেল ব্যবহার করি সেটা অপরিশোধিত তেল। এখানে লেড, ম্যগানেসিয়াম, সালফার— যেসব বিদজ্জনক পদার্থ এখানে (তেল) পাওয়া যায়। যার কারণে ছোট দেশ হওয়ার পরেও, ছোট শহর (ঢাকা) হওয়ার পরেও বায়ুদূষণে উপরে রয়েছি!
শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে স্মার্ট সিটি গড়ে তুলতে হবে, সবুজ নগরীতে পরিণত করতে হবে। আপনারা (গবেষক ও শিক্ষার্থী) শুধু সমস্যার কথা বলবেন না, শুধু প্রশ্ন ছুঁড়ে দেবেন না, আপনারা সমাধান দেবেন, আমাদেরকে বলবেন এই পথে হাঁটেন, অন্য পথে হাঁটলে বিপদ। সরকারকে পরামর্শ দেবেন, সরকার আপনাদের সমাধান গ্রহণ করবে বলে মন্তব্য করেন মেয়র তাপস।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইনস্টিটিউটের পরিচালক এস এম নাসিফ শামস। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিকা আয়শা খান, ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের কার্যকরী সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল, ডিবিসি নিউজের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।
আল-সাদী ভূঁইয়া/কেএসআর/জেআইএম