৩ বছরের শিশু ধর্ষণ
১২ বছর পর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
তিন বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১২ বছর ধরে পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। শুক্রবার (২৬ মে) ভোরে রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার মো. সোহাগ হাওলাদার (৩২) দীর্ঘদিন একই স্থানে বসবাস করতেন না। কিছুদিন পর পর তিনি স্থান ও পেশা পরিবর্তন করতেন। গ্রেফতারের আগে দারুসসালাম এলাকায় কাঠমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।
শুক্রবার (২৬ মে) দুপুরে র্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২৬ মে ভোরে রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে বরিশাল মহানগরীর এয়ারপোর্ট এলাকার চাঞ্চল্যকর তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পলাতক সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব কর্মকর্মকর্তা এএসপি মাজহারুল বলেন, ভুক্তভোগী শিশু ও গ্রেফতার আসামি প্রতিবেশি। শিশুটির বাবা রিকশাচালক এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। এ সুযোগে ঘটনার দিন আসামি সোহাগ শিশুটির বাড়িতে যান। শিশুটিকে একা পেয়ে দোকান থেকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যান। পরে মুখ ধরে চেপে ধর্ষণ করেন। শিশুটিকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ঘরের মধ্যে ফেলে রেখে সোহাগ পালিয়ে যান।
এরপর শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মাকে সংবাদ দেন। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই দিন ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে বরিশাল মহানগরীর বিমানবন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
এএসপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২০২১ সালের মে মাসের শেষের দিকে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
গ্রেফতারকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা এবং একই মামলায় যাবজ্জীবন হওয়ায় গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেফতার এড়াতে ঢাকায় এসে কখনো রিকশাচালক, দিনমজুর, কুলি ইত্যাদি কাজ করতে থাকেন।
টিটি/ইএ/জিকেএস