৪১ হাজার টন বর্জ্য সরিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন
এ বছর ঈদ ঘিরে ৪৮ ঘণ্টায় কোরবানির পশুর ৪১ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ঈদের দিন ও তার পরের দিনে এ পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন জাগো নিউজকে জানান, শনিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা পর্যন্ত উত্তর সিটি এলাকায় ২২ হাজার ৩৮৭ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৬০৬টি ট্রিপে এ বর্জ্য আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়েছে। পশুর হাট থেকেও বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৮ ঘণ্টায় উত্তরে, সাড়ে ১১ ঘণ্টায় দক্ষিণের বর্জ্য অপসারণ
অন্যদিকে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার এলাকায় ১৮ হাজার ৮৫২ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। মোট ৪ হাজার ৩১০টি ট্রিপে এ বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ফেলা হয়েছে।
এর আগে দুপুরে ডিএসসিসি বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করে। ওই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, ঈদের প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য ১০ থেকে ১১ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হয়েছে। এরপর গত দুদিনের মধ্যে যত পশু কোরবানি হয়েছে তার সম্পূর্ণ বর্জ্য তারা অপসারণ করেছে।
তিনি বলেন, ভারি বর্ষণ আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু প্রস্তুতি থাকায় আমরা সে কাজটি ঠিক সময়ে করতে পেরেছি। আমরা মনে করি সবচেয়ে কম সময়ে কাজ করতে পেরেছি।
আরও পড়ুন: ১৭ হাজার ৮৬৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ দক্ষিণ সিটির
পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, ইজারাদাররা তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করায় হাটের বর্জ্য অপসারণে কিছুটা দেরি হয়েছে।
বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে ওয়ার্ড কাউন্সিলররা সহযোগিতা করেছেন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মীদের পাশাপাশি কাউন্সিলররাও ট্রাকে করে বর্জ্য অপসারণের কাজটি করেছেন। কাউন্সিলররা ট্রাক, খোলা ট্রাক এবং কিছু জনবল নিয়োগ করেছেন বর্জ্য অপসারণের জন্য। তাদের মধ্যে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে কিছু কিছু ওয়ার্ডে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ করতে পেরেছি।
যেসব ইজারাদার বর্জ্য অপসারণে দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেননি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ইজারাদারদের চুক্তির শর্ত ছিল হাটগুলো তারা পরিষ্কার করে দেবেন। যারা শর্ত ভঙ্গ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের যে জামানত আছে সেখান থেকে কর্তন করে সামনের দিনগুলোর জন্য হুঁশিয়ার করা হবে।
আরও পড়ুন: সময়মতো বর্জ্য অপসারণ করায় মধ্যাহ্নভোজ করালো ডিএনসিসি
এমএমএ/এমকেআর/এমএস