যৌতুক-নির্যাতন মামলায় সেই মোস্তাকিমের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমে গ্রেফতার হন সৈয়দ মোহাম্মদ মুনতাকিম ওরফে মোস্তাকিম (২৪)। এ ঘটনায় তিনি আলোচনায় আসেন। সেই মোস্তাকিমের বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা যৌতুক ও মারধরের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।
সোমবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আওলাদ হোসেন জুনায়েদ এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ বিষয়টি মঙ্গলবার (৪ জুলাই) গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
সৈয়দ মোহাম্মদ মুনতাকিম ওরফে মোস্তাকিম (২৪) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর এলাকার সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ আজমের ছেলে। তিনি হাটহাজারী থানার ফতেয়াবাদ লালিয়ারহাট তৈয়বিয়া পাড়ায় বসবাস করেন।
আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী এম জাফর আলম বলেন, স্ত্রী হাবীবা আকতারকে মারধর ও যৌতুক দাবি করায় সৈয়দ মোহাম্মদ মুনতাকিমের বিরুদ্ধে সোমবার আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর সৈয়দ মোহাম্মদ মুনতাকিম ওরফে মোস্তাকিমের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার দেনমোহরে হাবীবা আকতারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন মোস্তাকিম। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে জোরপূর্বক বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
গত ১৭ জুন বিকেলে স্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে মোস্তাকিম আবারও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মোস্তাকিম স্ত্রীকে মারধর করে মারাত্মক জখম করেন। এ ঘটনার পর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে মোস্তাকিমের কোনো ধরনের যোগাযোগ এবং খোঁজ-খবর রাখছেন না বলে মামলাল আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে মারামারিতে জড়িতে পড়ে মোস্তাকিম। ওই আন্দোলন থেকে গ্রেফতার হয়ে বেশ কয়েকদিন কারাবন্দি ছিলেন তিনি।
পরে জামিনে বেরিয়ে পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় নির্যাতনের অভিযোগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নগরের পাঁচলাইশ থানার ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদার ও এসআই আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে মামলা করে আলোচনায় এসেছিলেন মোস্তাকিম।
ইকবাল হোসেন/এএএইচ