আইসিটি প্রতিমন্ত্রী
সুযোগ পেলে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী নেতৃত্ব দিতে সক্ষম
সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
তিনি বলেন, যথাযথ সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে তারা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
আগামী দিনে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে দেখা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
বুধবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য ‘আইসিটি প্রশিক্ষণ কোর্সের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

পলক বলেন, আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ২-৩ মাসের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের জন্য স্মার্ট জব ফেয়ারের আয়োজন করা হবে। এই ফেয়ারে চাকরিদাতারা অন স্পট চাকরি দেবেন। আর অংশগ্রহণকারীদের দুর্বলতা ধরিয়ে দেওয়ার পর তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এরই মধ্যে আইসিটি বিভাগ ১২টি স্মার্ট কর্মসংস্থান মেলা করেছে। ঢাকাসহ পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলাতেই হবে।
তিনি বলেন, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে কোডার্স ট্রাস্টের মাধ্যমে ৫৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের পাঁচ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
এছাড়া দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীদের জন্য দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সেলফ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড অন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট (সিড) প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর থেকে ট্রান্সজেন্ডারদের ভালোবাসেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার বড় প্রমাণ তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া। নাগরিক সনদপত্রে মায়ের নামের পাশাপাশি লিঙ্গের স্থানে তাদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আইনগতভাবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এটা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ পেয়ে এরই মধ্যে তাসনুভা আনান শিশির বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ পাঠ করে প্রমাণ দিয়েছেন, একটু সুযোগ পেলে তারা যে কোনো নারী-পুরুষ থেকে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক রনজিৎ কুমারের সভাপতিত্বে কোডার্স ট্রাস্ট চেয়ারম্যান আজিজ আহমেদ ও সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার প্রতিষ্ঠাতা সালেহ আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
এনএইচ/জেডএইচ/জিকেএস