এনবিআর কর্মকর্তাকে নির্যাতন: গাড়িচালক ও সহযোগী কারাগারে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) যুগ্ম কমিশনার মাসুমা খাতুনকে অপহরণের পর নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় ভুক্তভোগীর সাবেক গাড়িচালক মাসুদ ও তার সহযোগী আব্দুল জলিল ওরফে পনুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার একদিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে রোববার (২৭ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মাসুদ ও জলিলকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান তাদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: সাবেক স্বামীর পরিকল্পনায় নারী কর কর্মকর্তাকে অপহরণ
অন্যদিকে আসামি হাফিজকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে তাদের গাজীপুরের শ্রীপুর ও রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাবের একটি দল।
২৬ আগস্ট একদিনের রিমান্ড শেষে অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত রাজু ও আবু বক্কর সিদ্দিক সাব্বিরকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো. সহিদুল ওসমান মাসুম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমীর আদালতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার তাদের একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নারী কর কর্মকর্তাকে নির্যাতন: তিন আসামি কারাগারে
গত ১৭ আগস্ট রাত ৮টার দিকে মাইক্রোবাসে মগবাজার থেকে সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় ফেরার সময় কমিশনার মাসুমা খাতুনের মাইক্রোবাস থামিয়ে কয়েকজন মিলে চালককে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে চালককে নামিয়ে মাইক্রোবাসসহ তাকে অপহরণ করা হয়।
এরপর ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ ছিল না। পরদিন দুপুর ২টার দিকে ওই নারী কৌশলে গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার শুরু করলে ঢাকার সবুজবাগ এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ও তিন অপহরণকারীকে আটক করে।
এ ঘটনায় ঢাকার রমনা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি অপহরণ মামলা হয়। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে মো. মাসুদ নামের এক ব্যক্তিকে, যিনি জুলাই মাসে ওই নারীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ছিলেন। ১ আগস্ট তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
জেএ/জেডএইচ/এমএস