হামের ভয়াবহতা: ব্যর্থ স্বাস্থ্যব্যবস্থার নগ্ন প্রতিচ্ছবি

হাসান হামিদ
হাসান হামিদ হাসান হামিদ , কথাসাহিত্যিক ও গবেষক।
প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ১৮ মে ২০২৬

‘হাম’ একটা শব্দ, যা একসময় বাংলাদেশে আতঙ্কের প্রতীক ছিল। তারপর ধীরে ধীরে আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি, এই রোগকে ইতিহাসের পাতায় পাঠানো গেছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিল। শিশুমৃত্যু কমানোর উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হতো বৈশ্বিক মঞ্চে। রাষ্ট্র নিজেও আত্মতুষ্টির ভঙ্গিতে ঘোষণা করেছিল, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে সেই আত্মতুষ্টির মুখোশ ছিঁড়ে গেছে নির্মমভাবে। হাম শুধু ফিরে আসেনি, এটি এখন রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার এক ভয়াবহ প্রতীকে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলো কান্নায় ভরে যাচ্ছে, মায়েরা সন্তানের নিথর শরীর আঁকড়ে ধরে বসে আছেন, আর সরকার এখনো ভাষার কারসাজিতে সংকটকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছে।

সরকারি তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশু মারা গেছে। কারও শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল, কারও মধ্যে ছিল হামের উপসর্গ। একই সময়ে ১ হাজার ৫১৭ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪২ হাজারের বেশি শিশু। শনাক্ত হয়েছে হাজার হাজার সংক্রমণ। মৃতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়েছে বহু আগেই। কিন্তু এই সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়। প্রতিটি সংখ্যা একটি পরিবার ধ্বংস হওয়ার গল্প। প্রতিটি মৃত্যু একটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার সাক্ষ্য।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই বিপর্যয় হঠাৎ করে আসেনি। এটি ছিল পুরোপুরি পূর্বাভাসযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহু আগেই সতর্ক করেছিল, বাংলাদেশে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো টিকাদানের কভারেজ কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরাও বলছিলেন, বিপুলসংখ্যক শিশু নিয়মিত টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার কী করেছে? কার্যত কিছুই না। তারা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেয়নি। তারা ব্যস্ত ছিল রাজনৈতিক স্থিতি, ক্ষমতার সমীকরণ, এবং প্রশাসনিক ইমেজ রক্ষায়। জনস্বাস্থ্য যেন তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায়ই ছিল না।

প্রশ্ন হলো, মার্চের শুরুতেই যখন মৃত্যুর খবর আসছিল, তখন কেন জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়নি? কেন প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্প চালু হয়নি? কেন স্কুল, মসজিদ, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানে একযোগে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়নি? কেন ঝুঁকিপূর্ণ বস্তি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোকে আগে থেকেই শনাক্ত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিতেই হবে। কারণ তারা শুধু প্রশাসনিকভাবে ব্যর্থ হয়নি, তারা নৈতিকভাবেও ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারের আচরণ দেখে মনে হয়েছে, তারা যেন একটি জনস্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলা করছে না; বরং রাজনৈতিক ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকলে তারা পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। “সন্দেহভাজন” আর “নিশ্চিত” মৃত্যুর পার্থক্য দেখিয়ে বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা চলে। অথচ মাঠের বাস্তবতা আরও ভয়ংকর। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এতটাই দুর্বল যে বহু শিশু পরীক্ষাই করাতে পারে না। অনেক পরিবার হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সন্তান হারাচ্ছে। গ্রামের বহু মৃত্যু কোনো সরকারি খাতায় ওঠেই না। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি সরকারি হিসাবের চেয়েও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

এই সংকট সবচেয়ে নির্মমভাবে আঘাত করছে দরিদ্র পরিবারগুলোকে। ঢাকার বস্তি, নদীভাঙা চরাঞ্চল, প্রত্যন্ত গ্রাম এসব জায়গায় শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। কারণ তারা নিয়মিত টিকা পায়নি। তাদের পরিবার হয়তো জানেই না দ্বিতীয় ডোজ কবে দিতে হয়। অনেক জায়গায় স্বাস্থ্যকর্মী পৌঁছায় না। কোথাও টিকার সরবরাহ দুর্বল, কোথাও অব্যবস্থাপনা, কোথাও আবার সচেতনতার ভয়াবহ ঘাটতি। কিন্তু রাষ্ট্র কি কখনো সত্যিকারের অর্থে এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে? সরকার কি কখনো টিকাদানকে জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্ব দিয়েছে? বাস্তবতা বলছে, দেয়নি।

বাংলাদেশ একসময় টিকাদান কর্মসূচিতে দক্ষিণ এশিয়ার মডেল ছিল। কিন্তু সেই সাফল্য ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়েছে অবহেলায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা, মাঠপর্যায়ের সমন্বয়হীনতা—সব মিলিয়ে বিশাল এক “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি হয়েছে। অসংখ্য শিশু একবারও টিকা পায়নি। যাদের বলা হয় “জিরো-ডোজ” শিশু। এই শিশুরাই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। অথচ একটি দায়িত্বশীল সরকার বহু আগেই বুঝতে পারত, এই ফাঁক ভবিষ্যতে মহামারির জন্ম দেবে। কিন্তু বাংলাদেশে পরিকল্পনার সংস্কৃতি নেই। এখানে সবকিছু হয় বিপর্যয় ঘটার পরে।

যদি এখনো সরকার বাস্তব পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই মৃত্যুর সংখ্যা এখানেই থামবে না। কয়েকশ থেকে তা হাজারেও পৌঁছাতে পারে। কারণ হাম অত্যন্ত সংক্রামক। একজন আক্রান্ত শিশু পুরো এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। আর যখন টিকাহীন শিশুর সংখ্যা এত বেশি, তখন এই আগুন আরও দ্রুত ছড়াবে। তখন হয়তো আবার নতুন কোনো রাজনৈতিক নাটক শুরু হবে, নতুন কোনো ইস্যু দেশকে ব্যস্ত রাখবে, আর শিশুদের মৃত্যু হারিয়ে যাবে শোরগোলের ভেতর।

সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের জায়গায়। এই রাষ্ট্র হাজার হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো প্রকল্প করতে পারে। বিশাল সেতু, দৃষ্টিনন্দন ভবন, মেগা প্রকল্প—সবকিছুর জন্য অর্থ আছে। কিন্তু শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, পর্যাপ্ত জনবল, শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা—এসবের জন্য পর্যাপ্ত রাজনৈতিক আগ্রহ নেই। কারণ জনস্বাস্থ্য খাতে রাজনৈতিক প্রচারণার আলো কম। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ক্যামেরা যায় না। সেখানে ভোটের নাটক হয় না। তাই স্বাস্থ্যখাত বরাবরই অবহেলিত।

এই সংকট আমাদের রাষ্ট্রীয় বৈষম্যকেও উন্মোচন করেছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকার শিশু নিয়মিত টিকা পায়, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পায়, জরুরি অক্সিজেন পায়। কিন্তু বস্তির শিশু অনেক সময় একটি টিকাও পায় না। গ্রামের পরিবার হয়তো চিকিৎসকের কাছেই পৌঁছাতে পারে না। ফলে হাম এখানে শুধু একটি ভাইরাস নয়; এটি শ্রেণিবৈষম্যেরও প্রতীক। গরিবের শিশুর মৃত্যু এই রাষ্ট্রকে কাঁপায় না। তাদের কান্না জাতীয় বিতর্কে জায়গা পায় না।

আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, সমাজ হিসেবেও আমরা অস্বাভাবিকভাবে উদাসীন হয়ে গেছি। শত শত শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যাচ্ছে, কিন্তু জাতীয় জীবনে তার কোনো গভীর প্রতিক্রিয়া নেই। সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা নেই। টেলিভিশনে ধারাবাহিক বিশেষ অনুষ্ঠান নেই। নাগরিক সমাজের তীব্র আন্দোলন নেই। কয়েক ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ হয়, তারপর আবার সবাই নতুন ইস্যুতে চলে যায়। যেন শিশুমৃত্যুও এখন স্বাভাবিক ঘটনা। এই উদাসীনতা শুধু রাষ্ট্রের নয়, সমাজেরও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রমাণ।

একটি সভ্য রাষ্ট্রে যখন শত শত শিশু হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যায়, তখন সরকারপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। জরুরি স্বাস্থ্য টাস্কফোর্স গঠন হয়। সেনাবাহিনী পর্যন্ত টিকাদান অভিযানে যুক্ত হয়। প্রতিটি স্কুল, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে বিশেষ ক্যাম্প বসে। কিন্তু বাংলাদেশে কী দেখা গেল? বিলম্ব, অস্বীকার, এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য শুনলে মনে হয়েছে, তারা এখনো সংকটের গভীরতা পুরোপুরি উপলব্ধিই করতে পারেনি।

এই ব্যর্থতার দায় কেবল প্রশাসনিক নয়, সরাসরি রাজনৈতিক। কারণ জনস্বাস্থ্য একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকার যদি চায়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান অভিযান চালানো সম্ভব। সরকার যদি চায়, প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে বাধ্যতামূলক জনসচেতনতা প্রচার চালানো সম্ভব। সরকার যদি চায়, প্রতিটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হলো, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। রাষ্ট্রের মনোযোগ অন্যত্র। ফলে শিশুরা মরছে, আর সরকার সংবাদ সম্মেলনে “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে” বলছে।

সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো, হাম প্রতিরোধযোগ্য। এই একটি বাক্য পুরো ট্র্যাজেডিটিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। কারণ এর মানে, এই মৃত্যুগুলো এড়ানো যেত। এই শিশুরা বাঁচতে পারত। তাদের পরিবার আজ শোকে ভেঙে পড়ত না। ছোট ছোট কবর হয়তো তৈরি হতো না। কিন্তু অবহেলা তাদের মেরে ফেলেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা তাদের জীবন কেড়ে নিয়েছে।

এখনো সময় আছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার। কিন্তু সেটি করতে হলে প্রথমেই সরকারকে বাস্তবতা স্বীকার করতে হবে। সংকটকে ছোট করে দেখা বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালাতে হবে। বস্তি, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা সব জায়গায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রতিটি জেলায় দ্রুত শনাক্তকরণ ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, সুরক্ষা ও প্রণোদনা বাড়াতে হবে। গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে ভয় নয়, সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পরিবারগুলোকে বুঝাতে হবে, হাম কোনো সাধারণ জ্বর নয়; এটি প্রাণঘাতী।

কিন্তু এই সবকিছুর আগে দরকার জবাবদিহি। জনগণ জানতে চায়, কেন এত দেরি হলো। কেন আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। কেন আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হলো। কেন স্বাস্থ্যখাতকে বছরের পর বছর অবহেলা করা হলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা কি এই ব্যর্থতার দায় নেবেন? তারা কি স্বীকার করবেন যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা ব্যর্থ হয়েছেন? নাকি আগের মতোই সবকিছু “নিয়ন্ত্রণে” বলে দায় এড়িয়ে যাবেন?

বাংলাদেশ আজ একটি নৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি। এই পরীক্ষা শুধু স্বাস্থ্যব্যবস্থার নয়; এটি রাষ্ট্রের মানবিকতার পরীক্ষা। একটি রাষ্ট্র তখনই সভ্য হয়, যখন সে তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের রক্ষা করতে পারে। শিশুদের রক্ষা করতে পারে। কিন্তু আজ বাংলাদেশে শত শত শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যাচ্ছে, আর রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া শীতল, ধীর, এবং অপর্যাপ্ত। এটি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়; এটি মানবিক ব্যর্থতা।

আজ যারা মারা যাচ্ছে, তারা এই দেশের ভবিষ্যৎ ছিল। একজন হয়তো চিকিৎসক হতো, একজন শিক্ষক, একজন বিজ্ঞানী, একজন শিল্পী। কিন্তু তারা এখন কবরের নিচে। আর তাদের মৃত্যুর দায় কোনো অদৃশ্য শক্তির নয়। দায় এই রাষ্ট্রের। দায় সেই নীতিনির্ধারকদের, যারা সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি। দায় সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির, যেখানে জনস্বাস্থ্য কখনো অগ্রাধিকার পায় না। দায় সেই সমাজেরও, যারা কিছুক্ষণ শোক করে আবার সব ভুলে যায়।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, যদি এখনো সরকার বাস্তব পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই মৃত্যুর সংখ্যা এখানেই থামবে না। কয়েকশ থেকে তা হাজারেও পৌঁছাতে পারে। কারণ হাম অত্যন্ত সংক্রামক। একজন আক্রান্ত শিশু পুরো এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। আর যখন টিকাহীন শিশুর সংখ্যা এত বেশি, তখন এই আগুন আরও দ্রুত ছড়াবে। তখন হয়তো আবার নতুন কোনো রাজনৈতিক নাটক শুরু হবে, নতুন কোনো ইস্যু দেশকে ব্যস্ত রাখবে, আর শিশুদের মৃত্যু হারিয়ে যাবে শোরগোলের ভেতর। কিন্তু ইতিহাস ভুলে না। ইতিহাস মনে রাখে, কোন রাষ্ট্র তার শিশুদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। বাংলাদেশ আজ সেই ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। এবং এই অধ্যায়ের প্রতিটি পাতায় লেখা থাকবে- এই মৃত্যুগুলো এড়ানো যেত, যদি রাষ্ট্র দায়িত্বশীল হতো।

লেখক: ন্যাশনাল এসোসিয়েট এন্ড কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ (বাংলাদেশ), আইএসএইচআর।

এইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।