পদ্মা ব্যারাজ: উন্নয়ন নাকি অর্থনৈতিক রূপান্তর?

ড. মো: হাছান উদ্দীন
ড. মো: হাছান উদ্দীন ড. মো: হাছান উদ্দীন , পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১১:৪০ এএম, ১৮ মে ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু প্রকল্প থাকে, যেগুলো কেবল ইট-পাথরের অবকাঠামো নয়; বরং একটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক দর্শন এবং কৌশলগত সক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প সম্ভবত সেই ধরনের একটি উদ্যোগ, যার প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির উপর পড়তে পারে।

আমরা সাধারণত উন্নয়ন বলতে সড়ক, সেতু, উড়ালসড়ক বা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বুঝি। কিন্তু একটি নদীমাতৃক দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হলো পানি ব্যবস্থাপনা। কারণ পানি শুধু কৃষির উপাদান নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন, নৌপরিবহন, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি। সেই অর্থে পদ্মা ব্যারাজকে কেবল একটি পানি প্রকল্প হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এটি মূলত বাংলাদেশের পানি-অর্থনীতি পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ।

দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশ একটি ভাটির দেশ হিসেবে উজানের সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক মূল্য পরিশোধ করে এসেছে। বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যায়। গড়াই, মধুমতি, কপোতাক্ষ, চন্দনা-বারাশিয়াসহ বহু নদী শুষ্ক মৌসুমে কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষি, মৎস্য, নৌপরিবহন এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের উপর।

লবণাক্ততা বাড়তে থাকে, ভূগর্ভস্থ পানির সংকট তৈরি হয়, এমনকি সুন্দরবনের প্রতিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ে।অর্থনীতির ভাষায় এটি কেবল একটি পরিবেশগত সংকট নয়; বরং একটি “স্ট্রাকচারাল ইকোনমিক লস”। কারণ নদী শুকিয়ে গেলে কৃষি উৎপাদন কমে, কৃষি কমলে গ্রামীণ আয় কমে, আয় কমলে স্থানীয় বাজার সংকুচিত হয়, আর বাজার সংকুচিত হলে শিল্প ও সেবাখাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থাৎ পানির সংকট ধীরে ধীরে পুরো আঞ্চলিক অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (IWM) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গড়াই নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে সুন্দরবনে মিঠাপানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় প্রতিবেশগত ভারসাম্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পও তার পূর্ণ সক্ষমতা হারিয়েছে। অর্থাৎ, এটি কেবল পরিবেশগত সংকট নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীল অর্থনীতির সংকট।

এই প্রেক্ষাপটে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় প্রায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার-স্লুইস গেট, নৌ-চলাচলের সুবিধা এবং প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা, যদিও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ এবং প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত বড় ব্যয়ের প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য কতটা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক? পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব শুধু এর প্রত্যক্ষ আয় বা রাজস্ব দিয়ে মূল্যায়ন করলে ভুল হবে। প্রকল্পটির প্রকৃত Return on Investment (ROI) নিহিত রয়েছে এর বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাবে। পদ্মা ব্যারাজের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। এখানে লাভ কেবল সরাসরি রাজস্ব নয়; বরং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় হ্রাস, জলবায়ু ক্ষতি কমানো, মৎস্যসম্পদ পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির পুনর্জাগরণের সম্মিলিত প্রভাব দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।

বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে বছরে বহু এলাকায় একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না। পর্যাপ্ত সেচ নিশ্চিত হলে ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ ও সবজি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। এছাড়া নদীর নাব্যতা বাড়লে নৌপরিবহন খরচ কমবে। বাংলাদেশে নদীপথ সড়কের তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল। ফলে পণ্য পরিবহন ব্যয় হ্রাস পেলে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বাড়বে। একই সঙ্গে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলে কৃষি ও মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করবে।

পদ্মা ব্যারাজ যদি পরিকল্পনাহীনতা, দুর্বল অপারেশন বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল না দেয়, তাহলে এটি অর্থনীতির জন্য চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু দক্ষ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এটি বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চ-রিটার্ন সম্পন্ন পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে পরিণত হতে পারে। সুতরাং পদ্মা ব্যারাজকে কেবল একটি ব্যারাজ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মূলত বাংলাদেশের পানি-সার্বভৌমত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন।

পরিবেশগত লাভের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবন কেবল একটি বন নয়; এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় সুরক্ষা বলয়। লবণাক্ততা ও পানির প্রবাহ সংকটের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে বিপুল। বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণাক্ততার কারণে কৃষি উৎপাদন ও মিঠাপানির মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পদ্মা ব্যারাজ যদি গড়াই-মধুমতি ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত মিঠাপানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পারে, তাহলে খুলনা ও সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত হলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায়ও বাংলাদেশ বড় ধরনের সুবিধা পাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যারাজটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি উৎপাদনে বছরে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে নদীর প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মৎস্যসম্পদ ও জলজ অর্থনীতিতে আরও ৩ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি তৈরি হতে পারে। নদীপথের নাব্যতা বাড়লে নৌপরিবহন ব্যয় কমবে, যা বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় এনে দিতে পারে।

অন্যদিকে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং সুন্দরবনের প্রতিবেশ সুরক্ষার অর্থনৈতিক মূল্যও কম নয়; এই খাতে সম্ভাব্য সাশ্রয় ও সুফল বছরে ৪ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এছাড়া প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্জাগরণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শিল্প ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ মিলিয়ে আরও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে অর্থনীতিবিদদের আনুমানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৩১ হাজার কোটি থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অর্থনৈতিক সুফল সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন কয়েক বছরের মধ্যেই এর প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়ের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সুফলের বড় অংশই হবে পুনরাবৃত্তিমূলক অর্থাৎ একবার প্রকল্পটি কার্যকরভাবে চালু হলে প্রতি বছর জাতীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব যুক্ত হতে থাকবে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর গবেষণায় দেখা যায়, পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করা প্রতি ১ ডলার দীর্ঘমেয়াদে ৩ থেকে ৭ ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক সুফল তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের মতো নদীনির্ভর অর্থনীতিতে এই রিটার্ন আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্পটির অর্থায়ন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রথম ধাপে আংশিক নিজস্ব অর্থায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিদেশি সহযোগিতা, উন্নয়ন ঋণ কিংবা যৌথ অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। চীনের সম্ভাব্য কারিগরি ও আর্থিক সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে মূল প্রশ্ন অর্থায়নের উৎস নয়; বরং বিনিয়োগের গুণগত মান এবং প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল। কারণ সব ঋণ অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর নয়। যদি ঋণ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ায়, তাহলে সেটি ব্যয় নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ভিত্তি।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে দেখেছে, একটি কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্প কীভাবে আঞ্চলিক অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে। পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যেমন পাল্টে দিয়েছে, পদ্মা ব্যারাজ সফল হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি অর্থনীতিও তেমনি পাল্টে যেতে পারে। পার্থক্য হলো, পদ্মা সেতু মূলত পরিবহন অবকাঠামো, আর পদ্মা ব্যারাজ সরাসরি উৎপাদনশীল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। পদ্মা ব্যারাজ সফল হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি অর্থনীতিতেও একই ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এখানে একটি রাজনৈতিক বাস্তবতাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি প্রচারণা ছিল যে বিএনপি নাকি “ভারতনির্ভর” অবস্থান নেয়। কিন্তু পদ্মা ব্যারাজের মতো প্রকল্প দেখাচ্ছে, বাস্তব রাজনীতিতে কৌশলগত সক্ষমতা তৈরি করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। কারণ পানি নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আত্মনির্ভরতা অর্জন কোনো দুর্বল রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং এটি একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রের লক্ষণ।

জনাব তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থনৈতিক বাস্তবতা, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতির উপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন। রাষ্ট্রকাঠামো মেরামত, বিকেন্দ্রীকরণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যে ধারণা তিনি তুলে ধরেছেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প সেই বৃহত্তর উন্নয়ন দর্শনের একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তবে প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন নয়; সুশাসন। বাংলাদেশে বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি প্রায় নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ যদি পরিকল্পনাহীনতা, দুর্বল অপারেশন বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল না দেয়, তাহলে এটি অর্থনীতির জন্য চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু দক্ষ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এটি বাংলাদেশের অন্যতম উচ্চ-রিটার্ন সম্পন্ন পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে পরিণত হতে পারে। সুতরাং পদ্মা ব্যারাজকে কেবল একটি ব্যারাজ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মূলত বাংলাদেশের পানি-সার্বভৌমত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন। ফারাক্কার প্রভাবে যে অর্থনৈতিক ক্ষয় পাঁচ দশক ধরে চলেছে, পদ্মা ব্যারাজ সেই ক্ষতি আংশিক হলেও পুষিয়ে দেওয়ার একটি বাস্তব প্রচেষ্টা।

লেখক : অধ্যাপক ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ  এবং চেয়ারম্যান ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ  পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী
[email protected]

এইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।