আইনশৃঙ্খলা-দুর্নীতি দমনই অগ্রাধিকার: তারেক রহমান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৬ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সঙ্গে তারেক রহমান ও জাইমা রহমান

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমন—এই দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি মনে করেন, এই দুই ক্ষেত্র কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা গেলে দেশের অন্যান্য সমস্যার বড় অংশ আপনা-আপনিই অনেকাংশে সমাধানের পথে আসবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কের উন্মুক্ত স্থানে ‘আমরা ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার ১০ জন বিজয়ীর সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভাবনা তুলে ধরে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের প্রথম কাজ হবে ল’ অ্যান্ড অর্ডার নিশ্চিত করা। মানুষ যেন রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আর দুর্নীতিকে যেভাবেই হোক আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে। বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি আছে—এই দুই জায়গায় যদি আমরা ভালোভাবে কাজ করতে পারি, তাহলে অন্য সমস্যাগুলো অনেকাংশে আপনা-আপনি সমাধান হয়ে আসবে। এটাই আমার প্ল্যান।

ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা

ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন—বিশেষ করে স্বামীহারা নারী ও সিঙ্গেল মাদারদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ১৩৮টির মতো প্রকল্প রয়েছে, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর আলাদা আলাদাভাবে পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের নানা সুবিধা এক জায়গায় আনতে চাই

তিনি বলেন, এভাবে চলা ঠিক না। এতে রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে—কেউ তিনটা সাপোর্ট পাচ্ছে, কেউ একটাও পাচ্ছে না। আমরা এটাকে ফ্যামিলি ভিত্তিতে অর্গানাইজ করতে চাইছি।

তারেক রহমান জানান, এই ফ্যামিলি কার্ড হবে ইউনিভার্সাল। কৃষকের স্ত্রী, ভ্যানচালকের স্ত্রী কিংবা একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী—সবাই এর আওতায় আসবেন। তবে দুর্নীতির মাত্রা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হবে।

শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সামাজিক পরিবর্তন

অনলাইনে নিপীড়ন, সাইবার বুলিং ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, সমস্যার মূল সমাধান আসবে শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা থেকে।

তিনি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, একটা ১২–১৩ বছরের ছেলে তার বাবাকে বলছে—তুমি সিটবেল্ট না লাগালে আমি গাড়ি থেকে নেমে যাবো। কারণ তার টিচার তাকে এটা শিখিয়েছেন। এখানেই সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্ব।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ভবিষ্যতে প্রাথমিক শিক্ষায় বেশি জোর দিতে চায়—নতুন ভবন নয়, বরং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শিশুদের শেখানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকে যদি শেখানো যায় কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল—তাহলে বড় হয়ে তারা ব্যবসা, চাকরি বা সমাজের যেখানেই যাবে, এই মূল্যবোধগুলো তারা প্রয়োগ করবে।

মোবাইল আসক্তি, খেলাধুলা ও নতুন কুঁড়ি

শিশু-কিশোরদের মোবাইল আসক্তি ও নেতিবাচক কনটেন্ট থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, একটা বাচ্চার এনার্জি বার্ন করতে হবে। সঠিক জায়গা না পেলে সে ভুল জায়গায় বার্ন করবে। সেজন্যই আমরা নতুন কুঁড়ির সঙ্গে স্পোর্টস যুক্ত করতে চাই।

স্কুল পর্যায়ের সিলেবাসে খেলাধুলা, তৃতীয় ভাষা, আবৃত্তি, গান, শিল্প-সংস্কৃতি যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ভবিষ্যতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ক্রীড়া—এই চারটি মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করানোর কথাও বলেন।

অনলাইন হ্যারাসমেন্ট ও ডিজিটাল শিক্ষা

অনলাইন হ্যারাসমেন্ট প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বলেন, ডিজিটাল এডুকেশন, রিপোর্টিং সিস্টেম এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শিশুদের মধ্যে সহমর্মিতা ও মানবিকতা তৈরির জন্য প্রাথমিক বা মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রাণী লালন-পালনের মতো উদ্যোগ শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করা যায় কি না—সেটিও বিএনপির ভাবনায় রয়েছে।

যানজট, স্যাটেলাইট টাউন ও মনোরেল

ঢাকার যানজট নিরসনে বিকেন্দ্রীকরণকে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঢাকাকেন্দ্রিক শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে জেলা শহরগুলোকে স্যাটেলাইট টাউনে রূপান্তর করা গেলে রাজধানীর চাপ কমবে।

তিনি আরও বলেন, দ্রুতগতির রেল যোগাযোগের মাধ্যমে এক ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ বা মুন্সিগঞ্জে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা গেলে মানুষ ঢাকার বাইরে বসবাসে আগ্রহী হবে।

মনোরেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি তুলনামূলক কম খরচে স্থাপনযোগ্য এবং বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে সংযুক্ত করা সম্ভব। কাজটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার ১০ জন বিজয়ী হলেন- তৌফিকুর রহমান, রাফায়েতুল আহমেদ রাবিত, শেখ রিফাত মাহমুদ, ফাতিমা আয়াত, মো. ইসরাফিল, শাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকরাতুল ইসলাম, যারিন নাজনীন, মো. রিফাত হাসান ও রমেসা আনজুম রোশমী।

আলাপচারিতায় তারা বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে তাদের ভাবনা ও প্রশ্ন তুলে ধরেন, যার জবাবে খোলামেলা মতামত দেন তারেক রহমান।

কেএইচ/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।