কোটি টাকা চাঁদাবাজি: স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১১:০৮ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দেবাশীষ নাথ দেবু

স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবুর কোটি টাকা চাঁদাবাজির ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু এই কমিটি গঠন করেন। তবে কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

গাজী মেজবাহুল হোসেন সাচ্চু বলেন, দেবাশীষ নাথ দেবুর চাঁদাবাজির ঘটনা তদন্ত করতে আমরা দুই সদস্যের কমিটি করেছি। তদন্তের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

এর আগে চাঁদাবাজির ঘটনায় এক প্রবাসীর দায়ের করা মামলায় ২১ আগস্ট চট্টগ্রাম পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে দেবুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর শুরু হবে এ মামলার সাক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার এক নম্বর সাক্ষী ও বাদী কুয়েত প্রবাসী বন্ধন নাথ সাক্ষ্য দিতে দেশে আসবেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার বন্ধন নাথ ২০০৭ সালে পাঁচলাইশ থানাধীন পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজায় ১৮ দশমিক ৩৭ শতক জায়গা কেনেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানকে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য জমিটি দেন। পরের দিন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে নিয়ে ওই জায়গায় যান বন্ধন নাথ।

এসময় ওই জায়গার গেট আটকিয়ে বন্ধন নাথকে আটকে রাখেন একেএম নাজমুল আহসান, দেবাশীষ নাথ দেবু, এটিএম মঞ্জুরুল ইসলাম রতন, আবু নাছের চৌধুরী, ইদ্রিস মিয়া ও জিয়া।

এসময় তারা এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। বন্ধন নাথ এই টাকা দিতে পারবেন না বললে তাকে মারধর করে এবং পিঠে গুলি করে। এসময় বন্ধন নাথ ও তার পরিবারকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই নেন আসামিরা। পরে ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আসামিদের চাঁদার টাকা পরিশোধের জন্য পাঁচটি চেক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে পুনরায় কুয়েত চলে যান বন্ধন নাথ।

কুয়েতে যাওয়ার পর চেকের মাধ্যমে আসামিদের ৭০ লাখ টাকা দেন তিনি। পরে ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওই জায়গায় কাজ শুরু করতে গেলে বাকি ৩০ লাখ টাকার জন্য চাপ দেয় এবং কাজে বাধা প্রদান করে। এ ঘটনার পর ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন বন্ধন নাথ। ওইদিনই দেবাশীষ নাথ দেবু এবং এটিএম মঞ্জুরুল ইসলাম রতনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে সব আসামি জামিনে আছেন।

এদিকে গত ৯ মার্চ দেবাশীষ নাথ দেবুকে সভাপতি করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ২০ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি গঠনের আগে দেবাশীষ নাথ দেবুর চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ইকবাল হোসেন/জেডএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।