বয়স ৫০, চুলের দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট!


প্রকাশিত: ০৭:১৬ এএম, ২৪ মার্চ ২০১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা আশা ম্যানডেলা। বয়স ৫০ হলেও চুলের দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট। বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা চুলের নারীর খেতাব সম্ভবত এখন তার দখলেই। চুলই যখন আশার নেশা, তখন চুল না ভালবাসলে কি আর প্রেমে পড়া যায়? আশা তাই ভালবেসে বিয়ে করেছেন কেনিয়ার হেয়ার ড্রেসার ইমানুয়েল চেগকে।

hair

একটি হেয়ার ওয়েবসাইটে আশার ছবি দেখে প্রেমে পড়েন ইমানুয়েল। তখনই আশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। আট মাস পর যখন আশা ব্যবসার কাজে কেনিয়া আসেন তখনই শুরু দু’জনের সম্পর্কের। অনেক দিন দূর থেকে আশার চুল দেখে মুগ্ধ ইমানুয়েল তা ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। বলেন, এত চুল দেখে আমি অভিভূত হয়েছিলাম। আমার কল্পনার অতীত। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো চুল হাঁটু পর্যন্ত লম্বা বা বড়জোর গোড়ালি পর্যন্ত। কিন্তু প্রথম দেখাতেই আমি থ হয়ে যাই! অসাধারণ।

Asha

যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ে করেছেন তারা। বিয়ের দু’বছর পর চুলের পুরো ভার স্বামী ইমানুয়েলের উপরই ছেড়ে দিয়েছেন আশা। ১৫ বছর ধরে হেয়ার স্টাইলিং যার পেশা তার উপর চুলের ভার দিয়ে আশা এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত। পুরো চুলে শ্যাম্পু করতে প্রায় দু’দিন সময়ের দরকার হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পরিচর্যা করতে হয়। আশা বলেন, স্বামী আমার চুলের খুব যত্ন নেন। আমি খুব অলস। স্বামীই আমার মাথায় ম্যাসাজ করে দেন, শ্যাম্পু করেন, চুল আঁচড়ে দেন। চুল নিয়ে বিশ্ব রেকর্ডের দাবি তোলার কথা ভাবছেন এই দম্পতি।
hair

শুধু আশা নন, স্ত্রীর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চুল বড় করছেন ইমানুয়েলও। আসলে এই চুলের বিশেষ আধ্যাত্মিক অর্থ রয়েছে ইমানুয়েলের কাছে। তিনি বলেন, আমি রাস্তাফারিয়ান। চুল আমার কাছে প্রতীকী। চুল থেকে আমি পজিটিভ এনার্জি পাই। চুল আমার শরীরের অংশ। স্রষ্টার সৃষ্টি।

রাস্তায় পড়ে নোংরা হওয়া থেকে বাঁচাতে অনেক সময়ই হ্যান্ড ব্যাগে চুল ভরে নেন আশা। উৎসাহে রাস্তার লোকজন তাকিয়ে দেখে তাদের। আশা বলেন, ‘লোকজনের মুখ সত্যিই দেখার মতো হয়। ইচ্ছা হয় ছবি তুলে রাখি।’

নিজে হেয়ার প্রডাক্টের ব্যবসা করেন আশা। চিকিৎসকরা তাকে বলেছিলেন, যেভাবে চুলের ওজন বাড়ছে তাতে চুল না কাটলে প্যারালিসিসের সমস্যা হতে পারে। আর তাই এখন জিমে গিয়ে তাঁকে ঘাড়ের এক্সারসাইজ করতে সাহায্য করেন ইমানুয়েল। এভাবে ৬৫ পাউন্ড কমিয়েছেন আশা।

তবে চুল কি কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না তাদের দাম্পত্য জীবনে? আশা জানালেন, আমাদের শোওয়ার ঘরের শোভা বাড়িয়েছে চুল। কখনও কখনও আমাদের সঙ্গে খাটেই থাকে চুল। কখনও দুজনের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। আবার কখনও কখনও আমরা মাটিতেও নামিয়ে রাখি।

এসআইএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।