মক্কার হারাম এলাকার সীমানা

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪১ পিএম, ০৪ মে ২০২৬
মক্কার হারাম এলাকার সীমানা ছবি: পিক্সাবে

মক্কাসহ মক্কার চতুর্দিকে কিছু দূর পর্যন্ত এলাকা ইসলামে হারাম বা সম্মানিত স্থান হিসেবে গণ্য হয়। এই অঞ্চল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই ‘হারাম’ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা জিবরাইলের (আ.) মাধ্যমে তার নবী ও খলিল ইবরাহিমকে (আ.) হারামের সীমানা দেখিয়ে দেন। তিনি জিবরাইলের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমানা স্তম্ভ স্থাপন করেন।

ইসলামে হারাম শরিফ বিশেষ সম্মানিত স্থান। হারাম শরিফে মুশরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সেখানে হত্যা, মারামারি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দ্বন্দ্ব-কলহ করা হারাম। হারামের সীমানার ভেতরে কোনো পশু-পাখি, জীব-জন্তু বা শিকারকে হত্যা করা বা তাড়িয়ে দেওয়া হারাম। এমন কি হারামের অভ্যন্তরে কাটাযুক্ত গাছ ও ঘাস কাটাও হারাম।

আল্লাহ তাআলা বলেন, (বলো) আমাকে তো নির্দেশ দেয়া হয়েছে এই শহরের রবের ইবাদত করতে যিনি এটিকে সম্মানিত করেছেন এর সব কিছু তাঁরই অধিকারে। আর আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই। (সুরা নামল: ৯১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যেদিন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিনই মক্কাকে হারাম বা সম্মানিত ঘোষণা করেছেন। এটা কেয়ামত পর্যন্ত হারামই থাকবে। (সহিহ বুখারি:  ৩১৮৯)

হারামের সীমানা

এখানে আমরা কাবার চতুর্দিকে হারামের সীমানা উল্লেখ করলাম:

১. তানঈম

মদিনার পথে এই স্থানটি অবস্থিত। এখানে 'মসজিদে আয়েশা' নামে একটি মসজিদ রয়েছে। মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার।

২. নাখলাহ

মক্কা থেকে তায়েফ যাওয়ার পথে এই স্থানটি পড়ে। মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব তেরো কিলোমিটার।

৩. জিয়িররানাহ

এটিও মক্কা থেকে তায়েফের দিকে অবস্থিত। মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব বাইশ কিলোমিটার।

৪. এযাতু লাবান (বর্তমানে আকীশিয়্যাহ নামেও পরিচিত)

মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব ষোলো কিলোমিটার।

৫. হুদাইবিয়্যাহ (শুমাইসিয়াহ নামেও পরিচিত)

মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্ব বাইশ কিলোমিটার।

৬. জাবালে আরাফাত (যাতুস্সালীম নামেও পরিচিত)

মসজিদে হারাম থেকে এর দূরত্বও বাইশ কিলোমিটার।

হারাম এলাকায় প্রবেশের আদব

এ এলাকায় প্রবেশের সময় বেশি বেশি তাওবা ও ইস্তেগফার করা, বিনয় ও আদবের সঙ্গে তালবিয়া ও দরুদ পাঠ করা এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা আবশ্যক। জেদ্দা থেকে মক্কায় গেলে শুমাইসি বা হোদায়বিয়া থেকে হারামের সীমা শুরু হয়। সম্ভব হলে এখানে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেওয়া উচিত।

হারামে প্রবেশের আগে গোসল করে নেওয়া মুস্তাহাব। বর্তমানে গাড়িচালকরা যেহেতু রাস্তায় গোসলের সুযোগ দেয় না, তাই মক্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে গোসল করে নেওয়া উচিত।

মসজিদে হারামে প্রবেশের সময় মসজিদে প্রবেশের সুন্নতগুলো পালন করা উচিত। যে কোনো মসজিদে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ পড়া, দরুদ পাঠ করা এবং ‘আল্লাহুম্মাফতাহলি আবওয়াবা রহমাতিক’ (হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজা খুলে দিন) পড়া এবং ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা সুন্নত।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।