রিশাদ পারলে বাকিরা কেন পারলেন না?

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০২৫

খেলা শেষে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কী বলবেন? টিম বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট থেকে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হবে, তা আগাম বলেই দেওয়া যায়। তারা সবাই বলবেন, উইকেট স্লো। বল দেরিতে ব্যাটে এসেছে। বাউন্সও তেমন ছিল না। হাত খুলে খেলা সম্ভব ছিল না। তবে একটা অজুহাত দেওয়া কঠিন। সেটা হলো, আজ মঙ্গলবার পিচ ততটা টার্নিং ছিল না। প্রথম খেলায় যেমন বল সাপের মতো এদিক-ওদিক ঘুরেছে, আজ কিন্তু তত স্পিন করেনি। তবে বল স্লথ হয়ে ব্যাটে এসেছে।

যেহেতু স্লো পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান স্পিনাররাই পুরো ৫০ ওভার বোলিং করেছেন, তাই তাদের বিপক্ষে হাত খুলে খেলা মানেই ছিল ঝুঁকি নিয়ে স্লো বলকে গায়ের জোরে সীমানার ওপারে পাঠানোর চেষ্টা। তাতে করে টাইমিংয়ের হেরফেরে আউট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকতো। সেই কারণে আমাদের ব্যাটারদের কেউই ফ্রি স্ট্রোক খেলার চেষ্টা করেননি। বেশির ভাগ ব্যাটারই বড় শট না খেলে হাফ ভলি, ওভারপিচ কিংবা শর্ট অফ লেন্থের অপেক্ষায় থেকেছেন। বাকি ডেলিভারিগুলো দেখে ডিফেন্স করেছেন। তাই রান চাকা স্লথ ছিল।

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের কেউই ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করতে পারেননি। ওয়ানডে মেজাজ তো বহুদূরে; সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মেহেদী হাসান মিরাজ-কেউই স্বচ্ছন্দে ব্যাট করতে পারেননি।

তারা কে কেমন খেলেছেন? কার ব্যাটিং কেমন ছিল? তা নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে না গিয়ে তাদের সবার স্ট্রাইকরেট দেখলেই বোঝা যাবে। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের মধ্যে নাজমুল হোসেন শান্ত (৭১.৪২ স্ট্রাইক রেটে ২১ বলে ১৭) ছাড়া আর কেউ ৭০-এর ঘরে পা রাখতে পারেননি।

হৃদয় ৬৩.১৫ স্ট্রাইক রেটে ২১ বলে ১৫ রান করেছেন। সাইফ (৩৭.৫০ স্ট্রাইক রেটে ১৬ বলে ৭), সৌম্য (৫০.৫৬ স্ট্রাইক রেটে ৮৯ বলে ৪৫), অঙ্কন (৪৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ৩৫ বলে ১৭), মিরাজ (৫৫.১৭ স্ট্রাইক রেটে ৫৮ বলে ৩২)। তারা সবাই ৩৭ থেকে ৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন।

ব্যতিক্রম ছিলেন একজন, রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচে ১৩ বলে ২ ছক্কা হাঁকিয়ে ২০০ স্ট্রাইক রেটে ২৬ করা বাংলাদেশি লেগস্পিনার আজ মঙ্গলবার শেরে বাংলায় রীতিমত ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন। ২৭৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ৩ বিশাল ছক্কায় মাত্র ১৪ বলে ৩৯ রানের হার না মানা ইনিংস উপহার দেন রিশাদ।

ক্যারিবীয় বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনকে লং-অনের ওপর দিয়ে নিজের তৃতীয় ছক্কা হাঁকানোর আগে স্পিনার গুদাকেশ মোতিকে এক ওভারে দুইবার হাঁটু মুড়ে স্লগ ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে মাঠ গরম করেন রিশাদ। বাংলাদেশের স্কোরলাইন বড় করেন তিনিই। এছাড়া উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানও ৯৫.৮৩ স্ট্রাইক রেটে ২৪ বলে ২৩ রান (১ ছক্কা ও ২ বাউন্ডারি) করার পথে মোটামুটি হাত খুলে খেলেন।

প্রশ্ন উঠেছে, রিশাদ আর সোহান শেষদিকে ইচ্ছেমতো বিগ হিট নিয়ে চার ও ছক্কা হাঁকাতে পারলে বাকিরা কেন পারলেন না? কেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের গড়পড়তা স্ট্রাইক রেট ৫০ থেকে ৬০-র মধ্যে ছিল? সেটা কি শুধু উইকেট বোলারদের স্বর্গ তাই? নাকি নিজেদের শট খেলার সামর্থ্য কম?

আসলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বেশিরভাগ স্কোরিং শটই হচ্ছে সুইপ, রিভার্স সুইপ, স্কুপ, স্লগ। এ উইকেটে সেই শটে রান করা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাংলাদেশের ব্যাটারদের রান তোলার গতি গেছে কমে। তারা না পেরেছেন সিঙ্গেলস-ডাবলসে রান চাকা সচল রাখতে, না পেরেছেন রিশাদ ও সোহানের মতো হাত খুলে খেলতে।

আজও ইনিংসের বেশিরভাগ ডেলিভারি থেকে রান তুলতে পারেননি বাংলাদেশ ব্যাটাররা। যা গুনে হিসাব কষলে আগের ম্যাচের চেয়েও বেশি। প্রথম খেলায় ইনিংসের ৪ বল আগে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের ব্যাটাররা ১৮৩টি ডট বল খেলেছিলেন। আজ সেটা বেড়ে ১৯৩ হয়েছে।

যারা খেলা দেখেছেন, তারা সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন; সোহান আর রিশাদ, বিশেষ করে রিশাদ শেষদিকে অমন ঝড়ো ব্যাটিং না করলে আজ কোনোভাবেই ২০০ রান হতো না বাংলাদেশের।

প্রথম দিন ২০৭ রান করেও ৭৪ রানে জেতা মিরাজের দল হয়তো আজও পার পেয়ে যেতে পারেন। তখন হয়তো ব্যাটারদের এমন শ্রীহীন ও অদক্ষ ব্যাট চালনা ঢাকা পড়ে যাবে। কিন্তু তাতে কি সত্যিকার সমস্যা দূর হবে?

নিজেদের গড়া ফাঁদে নিজেরাই আটকে টাইগাররা। স্লো উইকেটে কীভাবে রান তুলতে হয়, স্কোরিং শট বাড়াতে কী কী কৌশল অবলম্বন করা জরুরি; তা যে জানা নেই বাংলাদেশের ব্যাটারদেরই।

এআরবি/এমএমআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।