‘বিসিবি সিলেটের’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ৩ জানুয়ারি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:১২ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের জন্য তো বটেই, বিশেষ করে সিলেটবাসী ও সিলেট ক্রিকেট অনুরাগীদের জন্যও ‘সুখবর।’ দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বিসিবির প্রথম শাখা অফিস খোলা হচ্ছে সিলেটে। এবং আর মাত্র ২ দিন পর ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বিসিবি সিলেটের।

ক্রিকেট পাড়ার গুঞ্জন নয়। খোদ বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেয়া তথ্য। ইংরেজী নতুন বছর ২০২৬ এর প্রথম দিন জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপে বিসিবি প্রধান দিয়েছেন এ সুখবর।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে আঞ্চলিক ক্রিকেট পরিদপ্তর। আঞ্চলিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন করা তথা অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে সকল বিভাগে বিসিবির আঞ্চলিক অফিস তৈরী হচ্ছে প্রথম কথা। দীর্ঘদিন ধরেই সে লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা বলা হয়। আমরা চেষ্টা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ পর্যায়ক্রমে সব বিভাগে একটি করে বিসিবি অফিস চালু করতে।’

বুলবুল আরও বলেন, ‘আমরা অনেক ভেবেচিন্তে অ্যাসোসিয়েশন নামকরণ করিনি। তাতে করে অনেকটা জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মত শোনায়। এবং ওই নামকরণে বিভাগ ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে একটা সাংঘর্ষিক ব্যাপার হতে পারে। তাই আমরা বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট কার্যালয়গুলোর নামকরণ নির্দিষ্ট বিভাগের নামেই নামকরণ করছি। বিসিবি সিলেট। বিসিবি বরিশাল। বিসিবি খুলনা। বিসিবি চট্টগ্রাম।’

প্রথম ধাপ হিসেবে আগামী ৩ জানুয়ারী ‘বিসিবি সিলেট’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।

বিসিবি বিগ বস আর জানান যে, বিসিবির ওই অফিস শুধু নামেই থাকবেনা। তার প্রত্যেক জোনাল বা আঞ্চলিক অফিসে একজন হেড থাকবেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে সব কার্যক্রম। তাদের আলাদা অর্গানোগ্রাম থাকবে। তারা ঠিক করে অফিস স্টাফ। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সিলেট বিসিবির আঞ্চলিক অফিসের প্রধান হবেন কে ?

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের জবাব, আমরা রীতিমতো মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়ে ঐ পদের জন্য আহ্বান করবো। আমরা চাই প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসের প্রধান হবেন যোগ্য ব্যক্তি।

বিসিবি সভাপতি আরও যোগ করেন, ‘পর্যায়ক্রমে সিলেটের পর অন্যান্য বিভাগীয় পর্যায়েও আঞ্চলিক কার্যালয় হবে। এবং এখন তিনি সেই কাজেই ব্রত। বলে রাখা ভালো, পৃথিবীর সব টেষ্ট খেলুড়ে দেশেই বিভিন্ন রাজ্য, প্রদেশ বা বিভাগীয় পর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয় আছে। তারাই দেশের ক্রিকেটের যাবতীয় কাজ পরিচালনা করে। ভারতে বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আছে। মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ু। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তাদের নিজ নিজ ক্রিকেটের দেখভাল করে।’

বাংলাদেশের জেলাভিত্তিক ক্রিকেটে মান খুব একটা মানসম্মত নয়। প্রায়শই আক্ষেপ করতে শোনা যায় জেলার ক্রিকেটারদের। সেই মান উন্নতির লক্ষ্যেই মূলত এমন উদ্যোগ। বিসিবি সভাপতি তাই ভারতের রাজ্য ক্রিকেটের মতো ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের আঞ্চলিক ক্রিকেটের উন্নয়নেও।

ভারতের রাজ্য ক্রিকেটে সবার অন্তত একটি করে উন্নত ও আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম আছে। বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট দল আছে। তৃনমূল থেকে কিশোর প্রতিভার অন্বেষণ, তাদের সুপ্রশিক্ষণসহ যাবতীয় কাজ করে ওই বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। রঞ্জি ট্রফিতে দল সাজাচ্ছে ওই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। সকল আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান, সর্বাধুনিক ক্রিকেট ভেন্যু, প্র্যাকটিস ভেন্যু, জিমনেসিয়াম ও ইনডোর ফ্যাসিলিটিজ সব ঐ প্রাদেশিক কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া , ইংল্যান্ড, দ. আফ্রিকা , পাকিস্তানসহ প্রায় দেশের রাজ্য, প্রাদেশিক ও বিভাগীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ই নিজ নিজ ক্রিকেট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত।

কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সর্বত্র বিসিবির তত্ত্বাবধানেই চলে। তাতে করে ঢাকার বাইরে যে ক’টা ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় চট্টগ্রাম ও সিলেটে, সেখানেও সে অর্থে কোন আঞ্চলিক সেটআপ গড়ে ওঠেনি। সে ধারার অবসান ঘটিয়ে ঢাকার বাইরেও ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গড়ে তুলতে উৎসাহি বিসিবি প্রধান।

বাংলাদেশেও অন্তত বিভাগীয় পর্যায়ে সেই রকম ব্যবস্থাপনা চালু করতে চান বিসিবি বর্তমান সভাপতি।
তবে কাজটা সহজ না। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আছে প্রচুর। নতুন নতুন তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটারও উঠে আসেন অগণিত। কিন্তু তারপরও দেশের ক্রিকেটের আঞ্চলিক অফিস পরিচালনা এবং পুরো বিভাগের ক্রিকেট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে মানের দক্ষ, সংগঠক, ভাল প্রশাসক ও ক্রিকেট জ্ঞানে পরিপূর্ন ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব দরকার, ঢাকার বাইরে তা খুব কম।

সংশ্লিষ্ট বিভাগে দক্ষ, যোগ্য ও উৎসাহী মানসম্পন্ন ক্রিকেট ব্যবস্থাপক প্রয়োজন। বাংলাদেশে বিশেষ করে ঢাকার বাইরে সে মানের দক্ষ সংগঠক, ব্যবস্থাপক, প্রশাসক পাওয়া কঠিন। এজন্য সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ত করা গেলে হয়তো বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট কার্যালয়গুলো ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারবে। না হয় নাম সর্বস্ব অফিস থাকবে। কিন্তু কাজের কাজ হবেনা।

এখন দেখার ব্যাপার হলো আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে কারা কাজ করেন, কাদের মনোনীত করা হয়। চলমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে কিন্তু সেই জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মতো হবে। নির্দিষ্ট বিভাগ বিসিবি অফিসেও জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার মত রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজন দিয়ে ভরে গেলে কাজের কাজ কিচ্ছু হবেনা।

বিসিবির বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিস পরিচালনা ও ক্রিকেটীয় কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য দরকার ক্রিকেট মনষ্ক মানুষ। ক্রিকেট বোঝেন, জানেন, বিশ্ব ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণা আছে এমন ব্যক্তিত্বর।

তা কি হবে ? সেটাই দেখার।

এআরবি/আইএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।