সেই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন ওয়াকার ইউনিস

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে মাঠের বাইরেও কঠিন লড়াই- তার প্রমাণ মিলছে বারবার। গত রোববার দুই দলের ম্যাচ হয়ে গেলেও, থামছে না সেই ম্যাচকে ঘিরে নানান আলোচনা। এই আলোচনা শেষপর্যন্ত গড়িয়েছিল ধর্মবিদ্বেষী মন্তব্যে। এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক কোচ ওয়াকার ইউনিস।

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে পাকিস্তান। যেকোনো বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে এটিই পাকিস্তানের প্রথম জয়। আর এ জয়ের রুপকার দুই ওপেনার বাবর আজম (৫২ বলে ৬৮*) ও মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৫ বলে ৭৯*)।

ম্যাচের ভারতের ইনিংসের পানি পানের বিরতির সময় মাঠেই নামাজ আদায় করেছিলেন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার রিজওয়ান। যা স্বাভাবিকভাবেই আলোড়ন তুলেছিল ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে। এটিকে ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণেও ব্যবহার করেন ওয়াকার। তবে নিজের বিদ্বেষী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে।

রোববার রাতে ম্যাচ শেষে এআরওয়াই নিউজের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার ও ওয়াকার। সেখানে রিজওয়ানের ব্যাটিং পারফরম্যানস বিশ্লেষণ করতে বলা হলে ওয়াকার বলে বসেন, ‘সবচেয়ে ভালো ব্যাপার যা রিজওয়ান করেছে, সে মাঠে নামাজ পড়েছে, হিন্দুদের সামনে দাঁড়িয়ে, সেটা ছিল সত্যিই খুব খুব স্পেশাল কিছু।’

যা ছিল সরাসরি হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ। ওয়াকারের মন্তব্য স্বাভাবিকভাবে নেয়নি ক্রিকেটের সচেতন মহল। জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে খোলাখুলিই সমালোচনা করেছিলেন ওয়াকারের। হার্শা বুঝিয়ে বলেছিলেন, ঠিক কোথায় ভুল করেছেন ওয়াকার।

চারদিক থেকে আসা সমালোচনার পর বোধোদয় ঘটে ওয়াকারের। বুধবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের এক বার্তার মাধ্যমে নিজের সেই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। পাশাপাশি খেলার মধ্যে ধর্ম, জাতি বা অন্য কোনো ভেদাভেদ আনা উচিত নয় বলেও জানান তিনি।

টুইটবার্তায় ওয়াকার লিখেছেন, ‘মুহূর্তের উত্তেজনায় আমি এমন কিছু একটা বলেছিলাম, যা অনেকের অনুভূতিকে আহত করেছে। আমার উদ্দেশ্য তা ছিল না। এটির জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। মোটেও এটি ইচ্ছাকৃত ছিল না, সত্যিকারের ভুল ছিল। জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একতাবদ্ধ করে খেলাধুলা।

এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]