এক যুগ ধরে যাদের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:২৫ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২০

ফুটবল মাঠে না থাকলেও আলোচনায় আছে। সে আলোচনার বিষয় একটাই- দেশের জনপ্রিয় খেলাটির ফেডারেশনের নির্বাচন। করোনাভাইরাস ফুটবল খেলা দমিয়ে রেখেছে। আর ফুটবল নিয়ে আলোচনা জমিয়ে রেখেছে নির্বাচন।

বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত এপ্রিলে। ২০ এপ্রিল নির্বাচনের তারিখও নির্ধারণ হয়েছিল। করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচন স্থগিত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফিফা-এএফসির গাইডলাইন অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করবে বাফুফে।

নতুন নির্বাচিত কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কমিটিকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও দিয়ে রেখেছে ফিফা-এএফসি। নির্বাচন ঠিক কবে হবে সেটা বলা মুশকিল। কারণ, বাংলাদেশে করোনোভাইরাস এখনও নিয়ন্ত্রণে নেই।

২০০৮ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে কাজী মো. সালাউদ্দিন বাফুফের সভাপতি। তিনি টানা তিনবার নির্বাচনে জিতেছেন। এর মধ্যে একবার জিতেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও দুইবার ভোটের লড়াইয়ে। তিনটি মেয়াদে কাজী মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে কাজ করেছেন ৩৬ জন। এর মধ্যে আরও ৮ জন আছেন টানা ১২ বছর ধরে।

এই ১২ বছরে ঘরোয়া ফুটবল, নারীদের বয়সভিত্তিক দলের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য, মেসিদের ঢাকায় এনে ম্যাচ খেলানো, কোটি টাকার সুপার কাপ আয়োজন- এসব নিয়ে বাফুফের সাফল্যের খাতাটা বেশ ভরাট। কিন্তু সমস্যা হয়েছে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে।

১২ বছরে বাংলাদেশ কোনো ট্রফি জিততে পারেনি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছেলেদের বয়সভিত্তিক ফুটবলে আছে অনেক সাফল্য। এশিয়ান গেমসে কাতারের মত দলকে হারিয়ে প্রথমবারের দ্বিতীয় পর্বে ওঠা বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন অধ্যায়।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১৮০ থাকা অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাজী মো. সালাউদ্দিন, ১৯৭ পর্যন্ত নেমেছিল, এখন ১৮৭। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বড় প্রভাব জাতীয় দলের পারফরম্যান্স। সেখানেই বাংলাদেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। ঘরোয়া ফুটবল আগের চেয়ে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও জাতীয় দল ফুটবলামোদীদের খুশি করতে পারছে না।

জাতীয় দল পরিচালনা করে ‘ন্যাশনাল টিমস কমিটি।’ শুরুতে নাম ছিল ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটি। দেখা যাক, এই ১২ বছর কাদের দায়িত্বে ছিল জাতীয় দল। কোচ নিয়োগের সুপারিশসহ জাতীয় ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সবকিছু ঠিক করে থাকে এই কমিটি।

এই এক যুগে আন্তর্জাতিক, ফিফা টায়ার-১ ও টায়ার-২ মিলিয়ে বাংলাদেশ ১০৭ ম্যাচ খেলেছে। জিতেছে ৩০টি, ২৫টি ড্র করে বাকি ৫২টি হেরেছে। ভুটানের কাছে প্রথম (৩-১) হার, জর্ডানের কাছে ৮-০, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ৬-১, অস্ট্রেলিয়া, তাজিকিস্তান ও মালদ্বীপের কাছে ৫-০ গোলের ব্যবধানের হারগুলো আছে এ সময়ে।

এক যুগে চারটি ন্যাশনাল টিমস কমিটি হয়েছে। সেখানে ঘুরে ফিরে ২৪ জন জাতীয় দল দেখাশুনা করেছেন। সবচেয়ে বেশি ১১ বছর এ কমিটিতে বাফুফের সহ-সভাপতি বাদল রায়। তিনি কাজী সালাউদ্দিনের প্রথম ৪ বছর ছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান। ২০১৩ সাল থেকে আছেন কমিটির সদস্য হিসেবে। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এক বছরের জন্য একটি কমিটি গঠন হয়। বাদল রায়ের পরিবর্তে চেয়ারম্যান করা হয় আরেক সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদকে। তিনি এখনও আছেন পদে। কেবল ঐ এক বছরের কমিটিতে ছিলেন না বাদল রায়।

টানা ৮ বছর ধরে এই কমিটির চেয়ারম্যান পদে আছেন কাজী নাবিল আহমেদ। আমিরুল ইসলাম বাবু ও সত্যজিৎ দাস রুপুও আছেন ৮ বছর ধরে সদস্য। ৭ বছর ধরে ডেপুটি চেয়ারম্যান তাবিথ আউয়াল। ৭ বছর ধরে কমিটির সদস্য আছে বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী ৪ বছর এবং চট্টগ্রাম আবাহনীর মহাসচিব শামসুল হক চৌধুরী ১ বছর কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন। এর বাইরে ৫ বছর এই কমিটির সদস্য ছিলেন সাবেক ফুটবলার খুরশিদ আলম বাবুল।

এই এক যুগে ন্যাশনাল টিমস কমিটির সুপারিশে বিভিন্ন মেয়াদে ১৪ জন কোচ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ৯ জন বিদেশি, ৫ জন স্থানীয়। ২০১৮ সালের মে মাস থেকে দায়িত্বে আছেন ইংল্যান্ডের জেমি ডে। জাতীয় দলের সাফল্য না থাকায় ফিফা র‌্যংকিংয়ে কেবল পিছিয়েছে বাংলাদেশ। তার প্রধান দায়টা ১২ বছর জাতীয় দল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল টিমস কমিটির।

এক যুগের চারটি ন্যাশনাল টিমস কমিটি

প্রথম কমিটি (২০০৮-১২) : চেয়ারম্যান- বাদল রায়, ডেপুটি চেয়ারম্যান- নুরুল আলম চৌধুরী, সদস্য- একরামুল করিম চৌধুরী, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, ছাইদ হাছান কানন, হাসানুজ্জামান খান বাবলু, খুরশিদ আলম বাবুল, শেখ মোহাম্মদ আসলাম ও প্রয়াত গোলাম রাব্বানী হেলাল।

দ্বিতীয় কমিটি (২০১২-১৩) : চেয়ারম্যান- কাজী নাবিল আহমেদ, ডেপুটি চেয়ারম্যান- শামসুল হক চৌধুরী, সদস্য- খুরশিদ আলম বাবুল, আমিরুল ইসলাম বাবু, সত্যজিৎ দাস রুপু, ইকবাল হোসেন, আরিফ হোসেন মুন, মোহাম্মদ মহসিন ও কাজী জসিম উদ্দিন জোসী।

তৃতীয় কমিটি (২০১৩-১৬) : চেয়ারম্যান- কাজী নাবিল আহমেদ, ডেপুটি চেয়ারম্যান- তাবিথ আউয়াল, সদস্য- বাদল রায়, আমিরুল ইসলাম বাবু, সত্যজিৎ দাস রুপু, ইলিয়াস হোসেন, আজমল আহমেদ তপন, আ জ ম নাছির উদ্দিন, আনোয়ারুল হক হেলাল।

চতুর্থ কমিটি (২০১৬-চলমান) : চেয়ারম্যান- কাজী নাবিল আহমেদ, ডেপুটি চেয়ারম্যান- তাবিথ আউয়াল, সদস্য- বাদল রায়, আমিরুল ইসলাম বাবু, সত্যজিৎ দাস রুপু, আনোয়ারুল হক হেলাল, শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর ও ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ।

আরআই/এসএএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]