সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা গোলরক্ষক ‘বাংলাদেশের বাজপাখি’ জিকো
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলো স্বাগতিক ভারত এবং আমন্ত্রিত অতিথি দল কুয়েত। শক্তিশালী কুয়েতকে ১-১ গোলে ঠেকিয়ে রেখে টাইব্রেকারে শিরোপা জিতে নিয়েছে ভারতীয়রা।
ফাইনালের মত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টাইব্রেকারে গোলরক্ষক গুরপ্রিত সিং কুয়েতের শট ঠেকিয়ে ভারতকে শিরোপা উপহার দিয়েছেন, অথচ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পুরস্কার জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশের আনিসুর রহমান জিকো।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের ‘বাজপাখি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে গেছেন জিকো। এবার পেলেন তার স্বীকৃতিও। মূলতঃ কুয়েতের বিপক্ষে অসাধারণ গোলকিপিংয়ের জন্যই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি।
সেমিফাইনালে কুয়েতের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দিযেছিলেন তিনি অবিচল আস্থায়। শুধু কুয়েতের বিপক্ষেই নয়, সাফের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেও দারুণ খেলেছেন তিনি।
সাফের সেরা গোলরক্ষক হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে আনিসুর রহমান জিকো লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। সাফ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক।’ এরপর সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি নিজেই লিখেছেন, ‘তাদেরকে বলে দিয়েন সাফ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক আপনাদের জিকো।’
সাফে সেমিফাইনালসহ বাংলাদেশ খেলেছে মোট চার ম্যাচ। এই চার ম্যাচে ৫ গোল হজম করেছেন আনিসুর রহমান জিকো। প্রথম ম্যাচে লেবানন ২-০ গোলে হারায় বাংলাদেশকে। এরপর বাংলাদেশ মালদ্বীপকে ৩-১ ও ভুটানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ১৪ বছর পর সাফ ফুটবলের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। সেমিফাইনালে কুয়েতের বিপক্ষে ১০৭ মিনিট পর্যন্ত জিকো ছিলেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। কুয়েত ১০৭ মিনিটে যে গোলটি দিয়েছিলো, তার আগে বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেছিলেন জিকো।
ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলেন আনিসুর রহমান। ২০২০ সালে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম খেলেন। কাতারের দোহায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে স্বাগতিক কাতারের বিপক্ষে একটি ম্যাচে বাংলাদেশ ৫-০ গোলে হারলেও আনিসুর রহমান সেদিন সবার নজর কেড়েছিলেন তার পারফরম্যান্স দিয়ে। সেদিন থেকেই জাতীয় দলের গোলবারে এক নম্বর পছন্দ তিনি। দেশের হয়ে খেলেছেন ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আইএইচএস/