প্রথম চার মাসে ২২৫টি কাজ-উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে ডাকসু

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ঢাবি
প্রকাশিত: ০৭:৪৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
মধুর ক্যানটিনের সামনে ডাকসু নেতাদের সংবাদ সম্মেলন/ছবি: জাগো নিউজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চার মাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে মোট ২২৫টি কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত ‘ডাকসুর চার মাস: কার্যবিবরণী ও জবাবদিহি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসময় ‘দায়িত্বগ্রহণের প্রথম চার মাসে ডাকসুর কার্যক্রমের বিবরণী’ এবং ‘প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৫’ শীর্ষক দুটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চার মাসের কার্যবিবরণী তুলে ধরেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা ১৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। তবে ১০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের ফল ঘোষণা হওয়ার দিনই শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহির অঙ্গীকার করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে ডাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করি, যেখানে প্রথম দুই মাসের কাজ তুলে ধরা হয়েছিল। আজ দায়িত্বগ্রহণের চার মাসে সম্পাদিত সব কাজ ও গৃহীত উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করছি।’

তিনি জানান, নির্বাচনের সময় তারা এবং অন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যে ইশতেহার দিয়েছিলেন, সেগুলো নোট করে রেখেছিলেন। সব ইশতেহারের বিষয়গুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। এরপরও যদি শিক্ষার্থীদের মনে হয় কোনো বিষয়ে তারা কাজ করেননি, তাহলে জানালে সে বিষয়ে অবশ্যই উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসময় ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাজেটের ঘাটতি। দীর্ঘদিন ধরে ডাকসুকে কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ১০৪ বছরে পদার্পণ করেছে, আর স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী এই প্রতিষ্ঠানকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটগুলো শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চায় না।’

তিনি অভিযোগ করেন, এই অকার্যকর অবস্থা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের অসহযোগিতা, বিভিন্ন মহল থেকে অপবাদ দেওয়া ও কাজের পথে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা হয়েছে। তবুও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে গেছেন। বাজেটের অজুহাতে থেমে না থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি রিসোর্স পারসন এবং দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিয়েছেন।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা চাইলে বলতে পারতাম, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থ পাইনি, তাই কাজ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমরা সেই পথ বেছে নিইনি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই আমরা প্রায় ২২৫টি কাজ সম্পন্ন করেছি, যা ৩৩টি খাতে বিভক্ত। এসব কাজের বিস্তারিত তথ্য আমাদের ওয়েবসাইট ও আজ আপনাদের হাতে দেওয়া বুকলেটে প্রকাশ করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনটি শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী যে সরকারই আসুক, আমরা একটি জবাবদিহিমূলক সরকার দেখতে চাই, যারা স্পষ্টভাবে জানাবে কী করেছে এবং কী করতে পারেনি। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দলগুলোও যেন এই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অনুসরণ করে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমনরুম-রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসীমউদ্দীন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেসারীসহ ডাকসুর অন্য নেতারা।

এফএআর/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।