ক্লাস-পরীক্ষায় শিক্ষকদের অনীহা : সেশনজটে ভেটেরিনারির শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত: ০৬:৩৬ এএম, ২০ জুন ২০১৫

ক্লাসরুম সংকট ও শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষায় অনীহার কারণে সেশনজটে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এনিমেল হাজবেন্ড্রী অ্যান্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা। স্বাভাবিকভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করতে সাড়ে ৬ বছর লাগলেও এখন তা ৭-৮ বছরেও শেষ হচ্ছে না। এতে করে শিক্ষার্থীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চাকরির প্রতিযোগিতায়ও দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত এনিমেল হাজবেন্ড্রী অ্যান্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগটিতে দীর্ঘদিন ধরেই সেশনজট থাকলেও তা কমাতে শিক্ষকদের কোনো তৎপরতা নেই। এর মধ্যে বিগত ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা হরতাল-অবরোধে ক্লাস-পরীক্ষা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বিভাগটিতে সেশনজট তীব্র আকার ধারণ করে। এরপরও বিভাগের পক্ষ থেকে সেশনজট দূর করা নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, ২০০৯-১০ সেশনের শিক্ষার্থীদের ২০১৩ সালে স্নাতক শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৫ তেও শেষ হয়নি। এমনকি তাদের এখনো এক বছর সময় লাগবে বলে জানা গেছে। ২০১২-১৩ বর্ষের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় বর্ষে উঠতেই ১০ মাসের জটে পড়েছেন। তাদের বর্তমানে ৫ম সেমিস্টার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তারা ৪র্থ সেমিস্টারে পড়ে আছেন। এদিকে ২০০৭-০৮ সেশনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা ১৮ মাসের সেশনজটে পড়েছেন।

সেশনজট ছাড়াও বিভাগটিতে অন্যান্য বিভাগের মতো সুযোগ-সুবিধাও নেই। ল্যাবসহ বিভাগের রুম সংখ্যা ৫টি। কোনো ব্যাচের ক্লাস থাকলে রুম সংকটে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বের হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়। এছাড়া বিভাগে কোনো সেমিনার কক্ষ না থাকয় বারান্দায় রাখা কয়েকটি চেয়ার-টেবিলেই সেমিনার রুমের কাজ সারতে হয়।

এছাড়া এখন পর্যন্ত মেয়েদের জন্য নেই কোনো কমনরুম। বাধ্য হয়ে তাদের পরিসংখ্যান বিভাগের কমনরুম ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া বিভাগটিতে শিক্ষার্থীদের জন্য এখন পর্যন্ত ওয়াই-ফাই বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থাও করা হয়নি। এতে করে তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তারা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে।

বিভাগের সেশনজট সম্পর্কে প্রশ্ন করলে বিভাগের সভাপতি ড. খন্দকার মো. মোজাফফর হোসেন জাগো নিউজকে জানান, বিভিন্ন সময় হরতাল-অবরোধের কারণে বিভাগের শিক্ষাকরা ঠিকমতো ক্লাস-পরীক্ষা নিতে পারেনি। ফলে শিক্ষার্থীরা একটু পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়াও বিভাগের ক্লাসরুম সঙ্কট থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে সমস্যা হয় বলে জানান তিনি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, অনেক সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কয়েকজন জন শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না। এমন প্রশ্নের উত্তরে বিভাগের সভাপতি জানান, আমার কাছে এ ধরনের অভিযোগ এখনো আসেনি। যদি এমনটি হয়ে থাকে তবে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে রাবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, শিক্ষকদের কম ক্লাস নেওয়া সেশনজটের একটি বড় কারণ। এজন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, রাবির নারিকেলবাড়িয়া ক্যাম্পাসে ওই বিভাগের জন্য যথেষ্ঠ রুম বরাদ্দ থাকলেও তারা সেগুলো ব্যবহার করেন না। সেখানে মেয়েদের জন্য একটি ছাত্রী নিবাস রয়েছে। সেটাও অযথা পড়ে আছে। কৃষি গবেষণা ও বিভাগীয় কাজের সুবিধার্থে তাদের সেখানে যাওয়াই উচিৎ। কিন্তু তারা সেখানকার সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছেন না।

উপ-উপাচার্য আরো বলেন, তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনে বেশ কিছু রুমের সংস্কার কাজ চলছে। সেগুলো থেকে ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগও কয়েকটি রুম পাবে। তখন আর কমনরুম, সেমিনার রুমের সমস্যা থাকবে না। সমস্যাগুলো সমাধানে সবার সাথে কথা বলবো। উপাচার্যকেও বিষয়গুলো জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।