শাবি উপাচার্যের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে শিক্ষকরা মুখোমুখি


প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ২২ জুন ২০১৫

উপাচার্যের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এক পক্ষ ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তার পদত্যাগের দাবিতে। অপরদিকে উপাচার্যের সমর্থকরা তালা ভেঙে উপাচার্যকে উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দীর্ঘ দুই মাস ছুটিতে থাকার পর সোমবার কাজে যোগদান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক ভূইয়া। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পরপরই তার পদত্যাগের দাবিতে ভবন ঘেরাও এবং তালাবদ্ধ করে রাখেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ।

বিকেল ৪টায় অবশ্য তারা ছাত্রলীগ ও শিক্ষক সমিতির নেতাদের চাপে টানা আট ঘন্টা অবস্থান নেওয়ার পর তালা খুলে দিয়ে চলে যায়। এর পরপরই উপাচার্য পক্ষের শিক্ষক নেতারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও সৈয়দ মুজতবা আলী হল প্রভোস্ট মো. ফারুক উদ্দীন জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় আমরা খবর পাই উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। এর পরপরই আমরা গেটে তালা দিয়ে ভবন ঘেরাও করে রাখি।

পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ সামসুল আলম জানান, এই অযোগ্য উপাচার্যকে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাইনা। যতক্ষণ উপাচার্য পদত্যাগ না করবেন ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এদিকে, উপাচার্য বিরোধী চলমান আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার পায়তারা উল্লেখ করে সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সরকার সমর্থিত আরেক পক্ষ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ পরিষদ। পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।

শাবি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান আন্দোলন কতিপয় স্বার্থান্বেষী শিক্ষকদের অনৈতিক আন্দোলন। এ আন্দোলনে ছাত্রলীগসহ কোনো ছাত্র সংগঠনের সমর্থন নেই। ছুটি শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা উপাচার্যকে স্বাগত জানায়।

সোমবার বেলা ৩টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কবীর হোসেনের নেতৃতে শিক্ষক সমিতির একটি প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের প্রস্তাব দিলে সমিতির সভাপতির সঙ্গে আন্দোলনকারীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।

ফলে উপাচার্যের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে শিক্ষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। শিক্ষকদের এক গ্রুপ উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন, তাঁর পদত্যাগের দাবিতে। অপরদিকে উপাচার্যের সমর্থকরা তালা ভেঙে তাঁকে উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

এর আগে আন্দোলনের মুখে ২ মাসের ছুটিতে যান ভিসি। ছুটি শেষে ২৪ জুন তিনি ক্যাম্পাসে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ক্যাম্পাসে ফিরেন শাবি ভিসি প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূঁইয়া। কাজে যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বদ্যিালয়ে নতুন স্থায়ী প্রক্টর ও ৩জন সহকারী প্রক্টর নিয়োগ দেন।

নতুন প্রক্টররা হলেন- ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান। সহকারী প্রক্টররা হলেন— লোকপ্রশাসন বিভাগের এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সামিউল ইসলাম, গণিত বিভাগের লেকচারার ওমর ফারুক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লেকচারার জাহিদ হাসান।

# শাবিতে আবারো উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা

ছামির মাহমুদ/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।