একজনের অপরাধে অন্যজনের সাজা!
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী হত্যা মামলার আসামি হয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মো. সাদ্দাম হোসেন নামের ওই যুবক বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। গত ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত সাদ্দামকে জেল হাজতে পাঠায়। পরে একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি।
সাদ্দামের দাবি, একই বিভাগের অন্য এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার নামের মিল থাকায় এমনটা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দিন বাইরে অবস্থান করেছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০১৫ সালের ১৩ মে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাদাত খালেদ মোশারফ নিহত হয়।
এ ঘটনায় ১৬ মে মোশারফের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর আসামিদের জবানবন্দি ও সাক্ষীদের তথ্য যাচাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়।
টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ। পরবর্তীতে ১৩ নম্বর আসামি মো. সাদ্দাম হোসেন সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এ ব্যাপারে মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমার বিভাগের অন্য এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার নামের মিল থাকায় এমনটা হয়েছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, আসামি তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। কিন্তু আমি তখন দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ছিলাম।
সাদ্দাম আরও বলেন, যেহেতু আমার নামে মামলা হয়েছে, তাই আদালতকে সম্মান জানিয়ে গত ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি হাজিরা দিয়েছিলাম। তখন জেলও খেটেছি ১৫ দিন। আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই, এই মর্মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরীয় বডির সদস্যরা, আমার বিভাগীয় প্রধান ও কয়েকজন সাক্ষী প্রত্যয়ন করেছেন।
মামলার ২ নম্বর সাক্ষী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলী আহম্মেদ ফয়সাল, ৪ নম্বর সাক্ষী বিশ্ববিদ্যালয়ের মান্নান হলের নৈশপ্রহরী মো. নাজিম উদ্দিন ও ৫ নম্বর সাক্ষী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাপ্রহরী মো. মোতালেব বলেন, মো. সাদ্দাম হোসেন সম্পর্কে যতটুকু জানি তিনি একজন মেধাবী ছাত্র। তিনি কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো গ্রুপের সঙ্গে জড়িত নয়।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অশোক কুমার সিংহ বলেন, যাচাই-বাছাই করেই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি অনেকদিন আগের। এখন নানা কারণে সাক্ষীরা বক্তব্য পরিবর্তন করতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি মো. সাদ্দাম হোসেন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম