আনন্দঘন পরিবেশে নোবিপ্রবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে রোববার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০১৮ উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম পরিবেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্রই উৎসবের আমেজ বিরাজ করে।
অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, উদ্বোধনী ঘোষণা, আনন্দ শোভাযাত্রা, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কেক কাটা, তথ্যচিত্র উপস্থাপনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সকাল ১০ টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী, প্রফেসর এমিরেটাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নোবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। পরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যাপ ও টি-শার্ট বিতরণ করা হয়। শোভাযাত্র শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়।
বেলা ১১টায় হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা। উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী।
সভার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে কাজ করেছেন যেসব উপাচার্য সবার অবদানসহ অদ্যাবধি নোবিপ্রবির নানা অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হক। অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন ওশানোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক এম গোলাম মোস্তফা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রসহ নানা সেক্টরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কামনা করে বক্তৃতা করেন আলোচনা সভার সভাপতি ও বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠামো উভয় দিক থেকে অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করলেও আজ নোবিপ্রবি অনেক দূর পৌঁছেছে। শুরুতে চারটি বিভাগ নিয়ে পথচলা শুরু করেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে আজ ২৫টি বিভাগ।
আগামীতে কেমন নোবিপ্রবি হবে তার বর্ণনা করতে গিয়ে ভিসি বলেন, সরকারের ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন ও ব্লু ইকোনোমি প্রসারের লক্ষ্যে সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একাডেমিক গবেষণাকে ত্বরান্বিত করতে নোবিপ্রবিতে ডেল্টা প্ল্যান গঠন, মহাকাশ বিষয়ে গবেষণা, এনভায়রনমেন্ট অনুযায়ী ইকোলজি বিষয়ে পঠন-পাঠন ও ব্যবস্থাপনার কাজ করা হবে। এছাড়া রোবোট্রিক্স ও মেকাট্রোনিক্সের মতো যুগোপযোগী বিভাগের দ্বার উন্মোচন করা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিধি।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তৃতা করেন- প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোখলেস-উজ-জামান, দৈনিক জাতীয় অর্থনীতির সম্পাদক কিবরিয়া চৌধুরী, শিক্ষার্থীদের পক্ষে রোকসানা আক্তার রুহি ও সাদ্দাম হোসেন ও কর্মচারীদের পক্ষে সোহরাব হোসেন প্রমুখ।
মিজানুর রহমান/এএম/জেআইএম