যবিপ্রবির ক্যালেন্ডারের ছবি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৭:৫৪ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে এই ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ‘অবমাননা’ করা হয়েছে অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত ছবি ‘বিকৃত করে’ প্রচার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বিকৃত ছবি প্রচার করে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডার নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জোর আলোচনা চলছে। অভিযোগ ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয় ১২ পৃষ্ঠার ডেস্ক ক্যালেন্ডার ছেপেছে। সেই ক্যালেন্ডার স্পাইরাল বাইন্ডিং করায় একটি পাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মাথার কিছু অংশ কাটা পড়েছে। এরপর শুরু হয় বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ক্যালেন্ডারের এই অভিযোগ নিয়ে সোমবার দুপুরে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেনকে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল কবির জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে আরেকটি মানহানির মামলা করেছেন। আদালত মামলা গ্রহণ করে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আইনজীবী শাহানুর আলম শাহিন জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির ওপর নিজের নাম লিখে রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন। আর ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির মাথার উপর ছিদ্র করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিকে এভাবে অবমাননা করায় ক্ষুব্ধ আনোয়ার হোসেন বিপুল যশোর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আকরাম হোসেনের আদালতে মামলা করেছেন।

তিনি আরও জানান, যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে মানববন্ধন থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুলের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বক্তব্য দেয়ায় একই দিন আরও একটি একটি মানহানির মামলা করা হয়েছে। একই আদালতে করা অভিযোগে মামলার আসামি করা হয়েছে শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল কবির জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হাসানকে। বিচারক অভিযোগ দুইটি গ্রহণ করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

পরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন বিপুল জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননা করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন মানুষ হিসেবে মামলা করা হয়েছে। আর এছাড়া মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত ছবি বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের বিকৃত ছবি প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেস্ক ক্যালেন্ডার সোমবার থেকে যশোরের বিভিন্ন সরকারি অফিসে দেয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ শুরু হয়েছে। এর আগে কোনো ডেস্ক ক্যালেন্ডার বিতরণ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে, বিতরণের পূর্বেই ডেস্ক ক্যালেন্ডারে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধু এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি কুচক্রীমহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সকলের জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে, প্রকৃত ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এবং ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে। এটা দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত করা হয়নি।

হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য গুজব ছড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হেয় করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনুরোধ, আপনারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়াবেন না। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে কেউ এটি ছড়ালে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

এ সময় শিক্ষক সমিতির নেতাদের আশ্বস্ত করে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আনোয়ার হোসেন বিপুলের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। কারণ উসকানির মাধ্যমে যে অশান্তি সৃষ্টি করবে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তাকে আমরা কেউ প্রশ্রয় দিতে পারি না।

মিলন রহমান/আরএআর/এমএস

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস নিয়ে লিখতে পারেন আপনিও - [email protected]