গরিব ম্যাইনসের আবার লেখাপড়া!


প্রকাশিত: ০৮:১৬ এএম, ২০ মে ২০১৬

মালা নেন, মালা। বকুল ফুলের মালা। অনেক ঘ্রাণ। মাত্র ১০ টাকা। এভাবেই শহরের মাহামুদুল হাসান সুপার মার্কেটে ফুলের মালা বিক্রি করেতে দেখা গেলো আট বছরের শিশু জবাকে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলের মালা বিক্রি করে সংসার চালায় সে।

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বেবী স্ট্যান্ড আমতলা বসতিতে বসবাস জবার। বাবা সাধন অটোরিক্সা চালান। ছোট দুই ভাই সুজয় ও শুভকে নিয়ে হিন্দু সংখ্যালঘু শিশুটির পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট ৫ জন। জবা বেবী স্ট্যান্ড আইডিয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তার ছোট দুই ভাই ও একই বিদ্যালয়ে ছাত্র।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় পৌর শহরের নিরালা মোড়ে শিশু জবার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তার কছ থেকেই জানা যায়, দিনে স্কুলের পড়া শেষ করে ফুলের মালা বিক্রি করতে শহরে বের হয় সে। সারাদিন শহরের বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে ফুলের মালা বিক্রি করে। দিনে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২টি বকুল ফুলের মালা বিক্রি করতে পারে। কোনো কোনো দিন আবার দু`একটি মালা বিক্রি হয় বলেও জানায় সে। তার প্রতিটি মালার দাম ১০ টাকা।
 
Tangail-Joba

আলাপকালে সে জানায়, ভাড়ায় চালিত অটোরিক্সা চালিয়ে তার বাবা দিনে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনশ টাকা আয় করেন। এ টাকায় সংসারের খরচ জোগাতেই হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া তিন ভাই বোনের ভোরণ-পোষণসহ পড়ালেখার খরচ চালাতে পারে না তার বাবা।

তাই বাবার পাশাপাশি সংসারের খরচ জোগাতে প্রতিদিন এই বকুল ফুলের মালা বিক্রি করে সে। প্রতিদিন ভোরে শহরের ব্যাপারী পাড়া এলাকা থেকে বকুল গাছ থেকে ঝড়ে পড়া ফুল সংগ্রহ করে। সেই ফুল দিয়ে মালা গেঁথে দেয় তার মা বাসন্তি। এরপর শহরে ঘুরে ঘুরে সেই মালা বিক্রি করে সে। মালা বিক্রি করতে কোনো কোনো দিন বিদ্যালয়ের পড়ালেখাও বাদ দিতে হয় তাকে।

স্কুল বাদ দিয়ে ফুল বিক্রি করলে পড়ার ক্ষতি হয় না? এমন প্রশ্নের জবাবে সে বললো, গরিব ম্যাইনসের আবার লেখাপড়া। জাগো কামাই না করলে খায়োন জুটে না, তাগো লেখাপড়া কেমনে সম্ভব?

কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে বলেই আবার রাস্তার অন্য পাশে মালা বিক্রি করতে ছুটে চলে গেলো জবা।

আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।