ধুনটে নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা


প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ৩১ মে ২০১৬
ফাইল ছবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বাঙালি নদীর মহিষনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর পানি বেড়ে কূল উপচে বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে বিস্তৃীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে ৫০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটেছে।
 
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পেচিবাড়ি ও চকধলি গ্রামের মাঝামাঝি অংশে মহিষনটি নামক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। অব্যাহত ভাঙনের কারণে মাটির তৈরি বাঁধের প্রায় ৩০মিটার অংশ বাঙ্গালি নদীগর্ভে বিলীন হয়। বর্তমানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি দু’ভাগ হয়ে পড়েছে। ফলে বাঁধের ওপর দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
 
স্থানীয়রা জানান, গত ১৯৮৭ সালে ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ি থেকে শেরপুর উপজেলার সাহেববাড়ী ঘাট পর্যন্ত বাঙালি নদীর পূর্ব তীরে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করেন সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প (ডিআইডিপি) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা।
 
এই বাঁধ নির্মাণের ফলে ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি, মথুরাপুর, গোপালনগর এবং শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ পরিবার প্রতি বছর বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা হয়।

এছাড়াও এই বাঁধের ওপর দিয়ে ধুনট ও শেরপুর উপজেলার বথুয়াবাড়ি, পেঁচিবাড়ি, বিলকাজুলী, জালশুকা, চানদিয়াড়, কুমিরিয়াডাঙ্গা, ভুবনগাতি, চকধলী, চককল্যানী, গুয়াগাছি, জয়লা-জুয়ান, কল্যাণী, বেলগাছি, জয়নগর, সুঘাট, রুদ্রবাড়িয়া, যুগিগাতি, নাগেশ্বরগাতি ও পাঁচথুপি-সরোয়াসহ ৫০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে।

ফলে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধের ওপর দিয়ে ৫০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে সমতল ভূমি থেকে পানির স্তর নীচে থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে না। তবে জরুরী ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত না করলে যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে, তাতে বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে বন্যার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

পেচিবাড়ি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা জানান, নির্মাণের পর থেকে ইঁদুরের গর্ত, অতিবৃষ্টি এবং নদীর পানি প্রবল তোড়ে বাঁধের বিভিন্নস্থানে ক্ষতি হয়। অনেক দিন আগে বাঁশের প্যালাসাটিং এবং সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধের কিছু অংশে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ করা হয়। তবুও বাঁধের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাজস খান বলেন, বাঙ্গালি নদীর মহিষনটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। দুই এক দিনের মধ্যে বাঁধের ভাঙা অংশে মেরামত কাজ শুরু করা হবে।

লিমন বাসার/এমএএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।