ভৈরব-আশুগঞ্জ রেলওয়ে সেতুর সংযোগ দেওয়ার আগেই ক্যাবল চুরি
ভৈরব-আশুগঞ্জ রেলওয়ে সেতুর ওপর নতুন স্থাপনকৃত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৩৩ কেভি (এক্সএলপিএল) কপার ক্যাবল সংযোগ দেওয়ার আগেই রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য কোটি টাকা।
এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রজেক্ট ডিভিশন-৩ মৌলভীবাজার বিউবো, ভৈরব অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক এ ব্যাপারে একটি ডায়েরি করেছেন।
জানা গেছে, ভৈরব-আশুগঞ্জ রেলওয়ে সেতুর উপর সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রজেক্ট বিউবো ঢাকার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভাগ-৩ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ভৈরব কিশোরগঞ্জের আওতায় ঠিকাদার কর্তৃক স্থাপনকৃত নতুন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন সংযোগ দেওয়ার আগেই আশুগঞ্জ প্রান্ত থেকে রেলওয়ে সেতুর মাঝখান পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার ৩৩ কেভি কপার ক্যাবল (৩০০ সিসি স্কয়ার) রহস্যজনকভাবে চুরি হয়ে যায়। রেলওয়ে সেতুর উপর দিয়ে আশুগঞ্জ থেকে ভৈরবে আসা এই লাইনটির সংযোগ দেওয়ার আগেই কেপিআই এলাকা থেকে বৈদ্যুতিক কপার ক্যাবল চুরি হওয়ার ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে।
সেতুতে সার্বক্ষণিক পুলিশের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে, কারা গুরুত্বপূর্ণ এ ক্যাবল চুরি করলো এই নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, রেলসেতুর ভৈরব পাড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকলেও আশুগঞ্জ পাড়ে কোনো পুলিশ প্রহরা নেই। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারাও এ চুরির ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন।
এ প্রজেক্টের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভাগ-৩, বিউবো ভৈরব, কিশোরগঞ্জের আওতায় সন্তোষ বাবু নামে এক ঠিকাদারকে কাজটি করতে দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। আশুগঞ্জ ভৈরব সঞ্চালন লাইনের কাজ চলতি জুন মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রজেক্টের সেতুর উপরে কাজ শেষ হলেও স্থাপিত কপার ক্যাবল এখনও ভৈরব বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রজেক্টের কাজ এখনও শেষ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভৈরবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হবে। রহস্যজনক চুরির ঘটনায় বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট অসৎ লোকজন জড়িত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রজেক্ট ভৈরব অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, কপার ক্যাবল চুরি হলে ঠিকাদার জরিমানা দেবে। কারণ ক্যাবল পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের নয়। তাই ঠিকাদারকে নিজ দায়িত্বে ক্যাবল কিনে পুনঃস্থাপন করতে হবে।
ভৈরব থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. বদরুল আলম তালুকদার জানান, কেপিআই এলাকায় পুলিশ সেতু পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুতের ঠিকাদারের কাজে ক্যাবল পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের নয়।
তিনি বলেন, রেলওয়ে সেতুর ভৈরব পাড়ে পুলিশের নিরাপত্তা থাকলেও আশুগঞ্জ পাড়ে কোনো পুলিশি নিরাপত্তা নেই। তাই ওপারে অরক্ষিত থাকায় অপরাধীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। এছাড়া ঘটনার পর ঠিকাদার ক্যাবল স্থাপনকৃত সেতু এলাকায় নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি আবেদনও করেছেন বলে তিনি জানান।
আসাদুজ্জামান ফারুক/এমএএস/আরআইপি