জেলা প্রশাসনের ফুল উৎসবে ‘গণঅভ্যুথান কর্নার’ সরিয়ে ফুড কার্ট

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
গত বছরের ‘গণঅভ্যুত্থান কর্নার’ (বামে) সরিয়ে এবার করা হয়েছে ফুড কার্ট।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত ডিসি পার্কের ফুল উৎসবে জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণের বদলে বাণিজ্যিক আয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বছর যেখানে ‘জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুথান কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছিল, সেখানে এ বছর সেটি সরিয়ে ফুড কার্ট বসানো হয়েছে। ফলে জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের কোনো স্মৃতি চিহ্নের প্রদর্শনী ছাড়াই উদ্বোধন হয় এবারের ফুল উৎসব। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মাসব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও উৎসবে কয়েকশ প্রজাতির ফুল প্রদর্শিত হচ্ছে।

আয়োজকদের তথ্য মতে, এ উৎসবে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার প্রায় অর্ধ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। উৎসব উপলক্ষে পার্কজুড়ে যুক্ত করা হয়েছে রাইড শেয়ার, কিডজোন, জিপ লাইন, প্যাডেল বোটসহ নানা বিনোদন সুবিধা। পাশাপাশি অর্ধশতাধিক খাবারের দোকান, ফ্লাওয়ার ট্রি, ময়ূর ট্রি, চায়ের কাপসহ নানান ধরনের দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তবে এসব বাণিজ্যিক আয়োজনের ভিড়ে অনুপস্থিত জুলাই শহীদ কিংবা যোদ্ধাদের স্মরণে প্রদর্শনী। এমনকি সম্প্রতি ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়েও কোনো স্মৃতি চিহ্ন রাখা হয়নি।

জেলা প্রশাসনের ফুল উৎসবে ‘গণঅভ্যুথান কর্নার’ সরিয়ে ফুড কার্ট

গত বছর জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত ফুল উৎসবে ‘জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুথান কর্নার’ নামে একটি কর্নার স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মুগ্ধ ও শহীদ ওয়াসিমের একটি করে ছবিসংবলিত বোর্ড, জুলাই যুদ্ধের গ্রাফিতি, জুলাই মাসে চট্টগ্রামের ৯ জন শহীদের তালিকা, গণঅভ্যুথান কর্নারের পরিচিতিমূলক লেখা, স্বাধীনতার সূর্যোদয় ও ‘নতুন বাংলাদেশ নিয়ে লিখুন আপনার প্রত্যাশা’এমন মাত্র ৯টি বোর্ড প্রদর্শিত হয়। কর্নারটি সব বয়সি দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল। বিশেষ করে শহীদ আবু সাঈদের ছবির সামনে তার মতো করে বুক চিতিয়ে হাত প্রসারিত করে ছবি তুলতে দেখা গেছে শিশুসহ অসংখ্য দর্শনার্থীকে।

এ বছরের ফুল উৎসবের প্রস্তুতিতে গণঅভ্যুথান কর্নারের সব বোর্ড সরিয়ে সেখানে ফুড কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার ডিসি পার্কে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা বলেন, যে জুলাইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আগামীর বাংলাদেশ, এক বছরের মাথায় সেই জুলাইকে এভাবে উপেক্ষা করা হতাশাজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে আগত দর্শনার্থী আরিফ হোসাইন বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন বিপ্লবের আইকন ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অনুপ্রেরণা। ডিসি পার্কের আয়তন ১৯৪ দশমিক ১৩ একর বা প্রায় ১২২ কোটি ৩৯ লাখ বর্গ ইঞ্চি। অথচ এত বিশাল জায়গার কোথাও শহীদ হাদির জন্য এক ইঞ্চি জায়গাও নেই, ভাবতেই অবাক লাগে।

জেলা প্রশাসনের ফুল উৎসবে ‘গণঅভ্যুথান কর্নার’ সরিয়ে ফুড কার্ট

ফুল উৎসবের উদ্বোধন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে নিয়ে কোনো প্রদর্শনী রাখা হয়নি। তবে উৎসবে জুলাই গণঅভ্যুথানের প্রদর্শনী রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করলেও পুরো পার্ক ঘুরে তেমন কিছু চোখে পড়েনি। বরং গত বছরের জুলাই ‘গণঅভ্যুথান কর্নার’ সরিয়ে সেখানে ১৩টি ফুড কার্টের দৃশ্য দেখা গেছে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে উনার মোবাইলে একাধিকার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনিও রিসিভ করেননি।

এম মাঈন উদ্দিন/এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।