নিখোঁজ তাজ উদ্দিনের ফেরার অপেক্ষায় মা
এটিএম তাজ উদ্দিন ওরফে কাউছার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। সর্বশেষ ২০১৩ সালে অসুস্থ বাবাকে দেখতে দেশে আসেন। এরপর মাঝে মধ্যে অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে মায়ের খোঁজ-খবর নিতেন। একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন তিনি। টাকা পাঠানোও বন্ধ করে দেন।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিখোঁজ ১০ জনের মধ্যে তাজের ছবি দেখে উদ্বিগ্ন মা তাহেরা বেগম। তিনি লক্ষ্মীপুরের আটিয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তাজ উদ্দিনের নিখোঁজের খবর তিনি এতদিন জানতেন না। শনিবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (ডিজি) করেছেন। এখন একমাত্র ছেলের দেশে ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে আছেন তিনি।
এটিএম তাজ উদ্দিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার আটিয়াতলী গ্রামের আসক আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত আবদুলাহ ভূঁইয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যরা এটিএম তাজ উদ্দিনকে কাউছার নামেই জানে। তার বাবা চট্টগ্রামে রেলওয়েতে চাকরি করতেন।
পরিবারের লোকজন জানায়, তাজ উদ্দিন তিন ভাই বোনের মধ্যে বড়, তারা দুই বোন এক ভাই। ছোটবেলা থেকেই তিনি খুব শান্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় আটিয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ১৯৯৭ সালে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ১৯৯৯ সালে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
এরপর ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এআইইউবি) থেকে ২০০৪ সালে কম্পিউটার সাইন্স টেকনোলজি বিভাগ থেকে (বিএসসি) স্কলারশিপ নিয়ে ২০০৬ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। ওই দেশের ‘দি নিউ সাউথওয়েলস ইউনিভার্সিটি’ থেকে মাস্টার্স শেষ করে ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান একটি কোম্পানিতে সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদে চাকরি শুরু করেন তিনি।
সে সময় তিনি ওই দেশি নোভা হাসান নামে এক নব্য মুসলিম নারীকে বিয়ে করে নাগরিক হন। ২০১০ সালে তার ঘরে জন্ম নেয় ছেলে সন্তান সাদ ইবনে তাজ উদ্দিন। দুই বছর পর মেয়ে সন্তান মারিয়াম বিনতে তাজ উদ্দিনের জন্ম হয়। সর্বশেষ ২০১৩ সালে তাজ অসুস্থ বাবাকে দেখতে বাড়ি আসেন এবং এক সপ্তাহ পর অস্ট্রেলিয়া চলে যান।
ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তার বাবা আবুদল্লাহ ভূঁইয়া মারা যান। তখন বহু চেষ্টা করেও তাজের কাছে বাবার মৃত্যু সংবাদটি পৌঁছাতে পারেনি তার পরিবার। প্রায় এক বছর পর তিনি বাড়িতে ফোন করলে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন।
তাহেরা বেগম বলেন, ২০১৩ সালে তাজ উদ্দিন বাড়ি থেকে চলে যায়, এরপর থেকে সে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। একপর্যায়ে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোও বন্ধ করে দেয়। গত রমজানের কয়েকদিন আগে সে শেষবারের মত বাড়ি ফোন দিয়ে আমার শারীরিক খোঁজ-খবর নেয়। এখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার নিখোঁজের খবর শুনছি। সে দেশে ফিরে আসুক, এটাই আমি চাই।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাসিম মিয়া বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাজের মা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার পর নিখোঁজ ১০ জন যুবকের পাসপোর্ট নাম্বারসহ ছবি প্রকাশ করে সরকার। নিখোঁজ ১০ যুবকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক লক্ষ্মীপুরের এটিএম তাজ উদ্দিনও রয়েছেন।
এফএ/পিআর