লক্ষ্মীপুরে মিরাজ হত্যা : সিআইডির তদন্তে অভিযুক্ত ১২
লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ (২৬) হত্যার ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।
জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হোসেন অধিকতর তদন্ত শেষে সম্প্রতি জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-১ এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস অবরোধ চলাকালে রায়পুর-মীরগঞ্জ সড়কের কেরোয়ার ভাঁটের মসজিদ এলাকায় মিরাজকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি রায়পুর পৌরসভার দেনায়েতপুর এলাকার সরদার বাড়ির মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল কালামের ছেলে।
আদালত সূত্র জানায়, এ হত্যা মামলায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। তখন বাদী অভিযোগ করেছিলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে তদন্তে গাফিলতি করে আসামিদের বাদ দিয়েছে। এজন্য বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের সিআইডিকে দায়িত্ব দেন আদালত।
সিআইডির তদন্তে উপজেলার মধ্য কেরোয়া গ্রামের শিবির নেতা রিয়াজকে প্রধান করে বিএনপি নেতা হাজী মোস্তফা কামাল, শিবির নেতা রফিকুল ইসলাম সোহাগ, যুবদল নেতা নুরে হেলাল মামুন, মাদক ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন রাজু ওরফে ইয়াবা রাজু, হারুন, জহির, মুসলিম, মাসুদ, সোহেল, জাহাঙ্গীর ও তানজিল হায়দার রিয়াজকে অভিযুক্ত করা হয়। অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে জামায়াত নেতা ইউছুফ হাফেজ, শিবির নেতা পরান ও ইউনুছ হোসেন রাজনসহ ১০ জনকে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের সঙ্গে মিরাজুল ইসলাম মাদক ব্যবসা করতেন। মিরাজের কাছে থাকা ব্যবসায়ীক ৩ লাখ টাকা নিয়ে আসামিদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। মিরাজকে হত্যার ২-৩ দিন আগে তার বাবাকে আসামিরা রায়পুরস্থ মোহাম্মদীয়া হোটেলে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতিও দেখায়।
পরে হত্যার দিন কৌশলে ব্যবসায়ীক কথাবার্তা বলে মিরাজকে জহিরের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। আসামিদের কিছু অংশ মিরাজকে ভূঁইয়ার হাটের দিকে নিতে মোটরসাইকেলে তার (মিরাজ) সঙ্গে মাসুদ ও সোহেলকে তুলে দেয়। ঘটনাস্থলটি জনবিচ্ছিন্ন ও নিরিবিলি হওয়ায় নিরাপদ মনে করে মিরাজের ওপর সেখানে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা সোহেল ও মাসুদও জখম হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে ডাক্তার মিরাজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মামলার বাদী আবুল কালাম বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, প্রকাশ্যে ও গোপনে মামলাটি অধিকতর তদন্ত শেষে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে তা নিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, হত্যার পরদিন মিরাজের বাবা বাদী হয়ে রায়পুর থানায় জামায়াত নেতা ইউছুফ হাফেজকে প্রধান ও শিবির নেতা পারানসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরের বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাজু ও হারুনসহ ১০ জনের নামে সম্পূরক এজাহার দায়ের করেন।
এসময় রহস্যজনক কারণে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। এছাড়া আদালতে নতুন করে দাখিল করা এজাহারে ঘটনার সময় মিরাজের সঙ্গে জখম হওয়া মাসুদ ও সোহেলকেও আসামি করা হয়। এনিয়ে ধোঁয়াশায় পড়েন তদন্ত কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, ঘটনার পর আহত মাসুদ বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামায়াত-শিবিরের ৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
থানা সূত্র জানায়, এ মামলায় পুলিশের তিনজন তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়। সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ফোরকান ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে বাদীর নারাজীর প্রেক্ষিতে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন।
কাজল কায়েস/এফএ