দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন

বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় অফিস, দাঁড়িয়ে সময় কাটে যাত্রীদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ১৪ মে ২০২৬
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন। পাশে টিনের ছাপরায় অফিস করছেন স্টেশনের কর্মচারী/ছবি-জাগো নিউজ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে ব্রিটিশ আমলের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। জামালপুরসহ আশপাশের তিন জেলার পাঁচটি উপজেলার মানুষ রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হন এই স্টেশন দিয়েই। ২০২১ সালে স্টেশনের পুরোনো ভবনটি নতুন করে নির্মাণের আশায় ভেঙে ফেলা হয়। এর পার হতে যাচ্ছে পাঁচটি বছর। এখনো শুরু হয়নি নির্মাণ কাজ।

বর্ষা এলে ছাদ ফুঁড়ে পড়ে পানি। গরমে টিনের ঘর হয়ে ওঠে আগুনের মতো উত্তপ্ত। হাড়কাঁপানো শীতে দায়িত্ব পালন করতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। নেই পর্যাপ্ত বসার জায়গা-বিশ্রামাগার। এমনকি নারী যাত্রীদের জন্যও নেই নিরাপদ টয়লেট ব্যবস্থা। অথচ একসময় এই স্টেশন ছিল উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে গর্বের নাম।

১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে চলাচল করে দুটি আন্তঃনগর, দুটি কমিউটার ও একটি মেইল ট্রেন।

বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় অফিস, দাঁড়িয়ে সময় কাটে যাত্রীদের

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনের টিনের চালাগুলো ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। যাত্রীদের বসার জন্য নেই কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা। নেই ব্যবহার যোগ্য টয়লেট কিংবা প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রীদের জন্য কোনো বিশ্রামাগার।

স্টেশনে সন্তান কোলে নিয়ে অনেক নারী-পুরুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অসুস্থ রোগীদেরও ট্রেন আসা পর্যন্ত কষ্ট করে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগের মধ্যেই চলাচল করছেন এই রুটের হাজারো যাত্রী।

স্টেশনে ঢাকাগামী অপেক্ষারত যাত্রী শামীম মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘বৃষ্টি এলে ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকাও যায় না। নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট নেই, বসার জায়গা নেই। একটা ঐতিহ্যবাহী স্টেশনের এই অবস্থা খুবই কষ্টের।’

বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় অফিস, দাঁড়িয়ে সময় কাটে যাত্রীদের

ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক যাত্রী শামীমা বেগম বলেন, ‘শিশু নিয়ে আসা মায়েদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। যাত্রীরা কষ্ট পাচ্ছে কিন্তু যেন দেখার কেউ নেই।’

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থী মামুন। তার বাড়ি মলমগঞ্জ এলাকায়। আর্থিক সংকটের কারণে জামালপুর শহরে থেকে পড়াশোনা করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিদিন সকালে ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে জামালপুর গিয়ে ক্লাস শেষে তিস্তা ট্রেনে বাড়ি ফিরে আসেন।

মামুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে স্টেশনের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। স্টেশনে দাঁড়ানোর মতো ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। বাধ্য হয়ে আশপাশের হোটেলে বসতে গেলেও নানা কথা শুনতে হয়। আমরা চাই, দ্রুত স্টেশনের সমস্যাগুলোর সমাধান করা হোক।’

বৃষ্টিতে ছাতা মাথায় অফিস, দাঁড়িয়ে সময় কাটে যাত্রীদের

শুধু যাত্রীরাই নন, দুর্ভোগে আছেন স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে থেকেই প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

স্টেশনটির স্টাফ মুসলিম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘বৃষ্টি এলে ছাতা মাথায় দিয়ে বসে থাকতে হয়। অফিস করার মতো পরিবেশ নেই। তারপরও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুল বাতেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন খুব শিগগির কাজ শুরু হবে। কিন্তু কবে হবে তা আমার জানা নেই।’

এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।