সাতক্ষীরা মৎস্য সম্প্রসারণ উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম


প্রকাশিত: ১২:২৬ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৬

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মৎস্য সম্প্রসারণ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজের শ্রমিক, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, ইজ্ঞিনিয়ার, খামার ব্যাবস্থাপকসহ একেক জনের বক্তব্যে গড়মিল পাওয়া গেছে। প্রশ্ন উঠেছে কাজের মান নিয়েও।

জানা যায়, ‘মানসম্মত মৎস্যবীজ ও পোনা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য স্থাপনা পুনর্বাসন উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চারটি প্যাকেজে চলছে ৪২ লাখ ২১ হাজার চারশ ৭৮ টাকার সরকারি কাজ। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স সৌহৃদ ইন্টারন্যাশনাল উত্তরা ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কাজের বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্যই দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। চারটি প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, স্টাফ ডরমিটরি,  অ্যাপ্রোজ রোড নির্মাণ ও অফিস সংস্কার।

khamar-pic

কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি তারিখে কার্যাদেশ প্রদান করা হয় মেসার্স সৌহৃদ ইন্টারন্যাশনাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। যা চুক্তি সম্পাদনের ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সেই অনুযায়ী চুক্তির সম্পাদনের নির্দিষ্ট তারিখের আর মাত্র ২১ দিন বাকি। অথচ এ প্রকল্পের অর্ধেক কাজও এখনো সম্পন্ন হয়নি। এদিকে, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা উন্নয়ন কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফাইমুল হক কিসলু জাগো নিউজকে জানান, খামার বাড়িতে যে উন্নয়নমূলক প্রকল্প চলছে সেটি যথাযথভাবে হচ্ছে না। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হচ্ছে একেক স্থানে একেক রকম। কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যাচ্ছেতাইভাবে কাজটি করছে।

স্থানীয় সাদিকুর রহমান জানান, সিডিউল অনুযায়ী কোনো কাজই হচ্ছে না। শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে বলে এক রকম, কন্ট্রাকটার বলে আরেক রকম আর কর্তৃপক্ষ বলে অন্য রকম। কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য জানতে চাইলে বলে তথ্য অধিকার আইনের ফরম পূরন করলে তথ্য দেব। ফরম চাইলে বলে ফর্ম নেই। এভাবেই চলছে কাজ।

khamar

প্রাচীর নির্মাণ কাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক বলেন, বেশির ভাগই ৮ থেকে ১০ফিট করে আমরা সীমান প্রাচীর নির্মাণ করছি। যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি এখানে করেছি ৮ফিট।

তবে একপাশে কোনো সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৌহৃদ ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার রাজন মোল্লা বলেন, যে পাশে সীমানা প্রাচীর করা হয়নি সেটুকু তো আমাদের করার দরকার হয় না।

সিডিউলে ওই অংশ কি বাদ রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। সিডিউলে এমন কিছু উল্লেখ নেই। তবে কেন করা হয়নি সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিনিধি।

khamar-pic

সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে খামার ব্যবস্থাপক মো. লুৎফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা তো টেকনিক্যাল কর্মী না। সিডিউল অনুযায়ী হচ্ছে কিনা এটা আমাদের যারা টেকনিকাল কর্মী কিংবা ইজ্ঞিনিয়ারিং উইং আছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।

সীমানা প্রাচীর নির্মাণে একেক জায়গায় একেক রকম কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাদেকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ম্যানুয়ালে ড্রয়িং ডিজাইনে সুনির্দিষ্ট কিছু না থাকার কারণে আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না। ম্যানুয়ালে নির্দিষ্ট থাকলে আর এই সমস্যাটা বাধত না। এ পর্যন্ত ৪০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্নের কথা বাকি রয়েছে ২১ দিন। এর মধ্যে কিভাবে কাজ সম্পন্ন সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওটা হয়ে যাবে।

satkhira

এদিকে, উন্নয়নমূলক এ প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরাবাসী।

আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।