ভারতীয় হাতিটি এখন সিরাজগঞ্জের দুর্গম চরে


প্রকাশিত: ০১:৪৩ পিএম, ২০ জুলাই ২০১৬

ভারত থেকে নদীর পানিতে ভেসে আসা বন্যহাতিটি বগুড়ার সারিয়াকান্দি পেরিয়ে এখন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চর ছিন্না এলাকায় অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার রাতে হাতিটি খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের গোদারবাগ চরে থাকলেও বুধবার বিকেলে সেটি ভাসতে ভাসতে ভাটি এলাকার ছিন্নার চরের একটি পাটক্ষেতে এসে অবস্থান নিয়েছে। নবাগত এই অতিথিকে দেখার জন্য দুর্গম চরাঞ্চলে ভিড় জমাচ্ছে অসংখ্য মানুষ।

হাতিটি বর্তমানে নিজের স্থান বদল করেছে ও চরের কাঁশ, জমিতে লাগানো আউশ ধানসহ নানা খাবার খাচ্ছে। সেখানে উপস্থিত শত শত মানুষের চিৎকার আর নানা শব্দে হাতিটি কিছুটা কোণঠাসা। তবে সকালের দিকে হাতিটি পুরো এলাকাজুড়ে ঘুরে বেরিয়েছে।

এদিকে বুধবার দুপুরের দিকে হাতিটির শুঁড়ের ঝাপটায় এই এলাকার কাসু নামের এক স্কুলছাত্র সামান্য আহত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। হাতিটি এখনো সুস্থ রয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত গিয়াস উদ্দিন মণ্ডল জানান, বুধবার ভোরে প্রথম তিনি হাতিটি দেখতে পান। তবে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই হাতিটি ছিন্নার চরের উজানে তার চাচা ওয়াছিম মণ্ডলের বাড়ির পাশে অবস্থান নেয়। হাতিটি দেখতে পেলে তার চাচার পুরো পরিবারসহ আশপাশের গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এসময় তারা সকলে ঘরে দরজা দিয়ে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে হাতিটি ভাটি এলাকার এই পাটক্ষেতে অবস্থান নেয়।

কৃষক কালু ব্যাপারী জানান, এখন পর্যন্ত হাতিটি কোনো ক্ষতি করেনি। তবে এই এলাকার স্কুলছাত্র কাসু (১০) শুঁড়ের ঝাপটায় আহত হয়েছে। কিন্তু হাতিটির অবস্থানের সামান্য দূরেই রয়েছে চিকাপাড়া গ্রাম। হঠাৎ করে হাতিটি এই গ্রামে হামলা চালালে এলাকার ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়। যে কারণে নানা বয়সী মানুষ দল বেঁধে চিকাপাড়া গ্রামের সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে। যাতে গ্রামের দিকে তেড়ে আসলেও সকলের চিৎকারে হাতিটি পিছু হটে। এতে মানুষের উপস্থিতিতে হাতিটি এখনো সাবলীল রয়েছে।

এ ব্যাপারে কাজিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুমিত কুমার কুণ্ডু বলেন, এলাকার মানুষের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেজন্য একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশকে সেখানে নিয়োজিত করা হয়েছে। নদীতে ভেসে আসা বন্যহাতি লোকালয়ে ঢুকে জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে, শব্দ করাসহ প্রয়োজনে ফাঁকা গুলি ছুড়ে হাতিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের বন্য পশু কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, হাতিটি একটি দুর্গম চরে আটকে পড়েছে। পাঁচ টনের অধিক ওজনের হাতিটিকে সরানোর মতো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এতো ওজনের হাতি নৌকা দিয়েও স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে হাতিটিকে অজ্ঞান করা হলেও এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে আবারো জ্ঞান ফিরে আসবে। এতো কম সময়ে হাতিটি সরানো সম্ভব নয়। দিনে একবারের বেশি অজ্ঞান করা হলে এটি মারা যাবে। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

ভারতীয় বন বিভাগও জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের কাছে তারা আসার জন্য আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে শিগগিরই তারা বাংলাদেশে আসবেন। সে সময় পর্যন্ত হাতিটিকে সঠিক উপায়ে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাদল ভৌমিক/এআরএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।