ভারতীয় হাতিটি সুস্থ আছে, স্বাভাবিক আচরণ করছে


প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ২২ জুলাই ২০১৬

চারদিন পরও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার যমুনার দুর্গম ছিন্না চরে থাকা হাতিটি উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে দুই দিন ধরে হাতিটি পর্যবেক্ষণে আসা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে, স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তিগত সহায়তা মিললে শনিবার হাতিটি উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, হাজার হাজার কৌতুহলী দর্শনার্থীর উপস্থিতি সত্ত্বেও বুনো হাতিটির আচরণ রয়েছে স্বাভাবিক রয়েছে। চরাঞ্চলের জমিতে বোনা আউশ ধানসহ ঘাস ও স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা কলাগাছও খাচ্ছে।

স্থানীয় নুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দিনভর হাতিটি ছিন্নার চরে অবস্থান করলেও সন্ধ্যার দিকে আকস্মিকভাবে যমুনা নদী সাঁতরে পার্শ্ববর্তী ধারা বরিষার চরে আশ্রয় নেয়। পুরো রাত কাটিয়ে সকাল ১০টার দিকে হাতিটি আবার নদী সাঁতরে ছিন্নার চরে ফিরে আসে।

উৎসুক মাজনাবাড়ী হাইস্কুলের ছাত্র রফিক জানান, তার মতো অনেকেই কলাগাছ কেটে হাতিকে খেতে দিচ্ছে।

হাতিটি উদ্ধারে ঢাকা থেকে আসা চার সদস্যের তদন্ত দলের প্রধান অসীম মলি­ক জানান, চরে পর্যাপ্ত ঘাস ও ফসল থাকায় খাবারের অভাব হচ্ছে না। যে কারণে হাতিটি শারীরিকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া গত কয়েক দিনে শত শত দর্শনাথীর উপস্থিতিও সে মানিয়ে নিতে পেরেছে। তবে দর্শনার্থীরা চারদিক ঘিরে রাখলে হাতিটি একদিকে ফোস ফোস শব্দ তুলে ধাওয়া দিয়ে দর্শনার্থীদের তাড়িয়ে দিচ্ছে। সরবরাহ করা কলাগাছের চাইতে জমির ঘাস ও ফসল হাতিটি বেশি খাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, বিমান আয়তনের হাতিটি পরিবহনের উপযক্তি প্রযুক্তি পেলে দুই একদিনের মধ্যেই উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে। এজন্য হাতিটি ট্যাংকুলাইবার করে অজ্ঞান করার পরেই বহন করা সম্ভব হবে। তবে প্রযুক্তিগত সহায়তা না পেলে তা করা সম্ভব হবে না। হাতিটি এখন স্বাভাবিক আচরণ করলেও বিরুপ পরিবেশ কিংবা খাবারের অভাব হলে সেটি বন্য আচরণ শুরু করতে পারে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অসিত বরন পাল শুক্রবার রাতে দিল্লী থেকে ঢাকা পৌঁছাবেন। তিনি এলেই হাতিটি উদ্ধারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় বন বিভাগের বাংলাদেশ সফর কিংবা তাদের মনোভাবও জানা যাবে।

বাদল ভৌমিক/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।