কৃষকের ৮৫ হাজার টাকা তহশিলদারের পকেটে!


প্রকাশিত: ১২:৩৫ পিএম, ২৭ জুলাই ২০১৬

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার শামছুল ইসলাম মানিকের বিরুদ্ধে জমির জমা-খারিজ করা দেয়ার নামে এক কৃষকের সঙ্গে লাখ টাকা চুক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে তিনি দুই দফায় ৮৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বাকি ১৫ হাজার টাকা না পেয়ে জমির খতিয়ান বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। আর এ নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অসহায় কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ভাষ্যমতে, উপজেলার চরমোহড়া গ্রামের জয়নাল আবেদিন ছৈয়াল বাড়ির আবুল হাশেম (৭০) প্রায় তিন মাস আগে তার মালিকীয় ৪৫ শতাংশ কৃষি জমির জমা-খারিজ করতে স্থানীয় ভূমি অফিসে যায়। এসময় ওই জমি জমা-খারিজ করতে এক লাখ টাকা লাগবে বলে তহশিলদার তাকে (হাশেম) সাফ জানায়।

পরে তিনি দুই দফায় ৮৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে তিনি (তহশিলদার) জমির খতিয়ান না দিয়ে নানা টালবাহানা করেন। বুধবার দুপুরে খতিয়ানের জন্য গেলে বাকি টাকা দাবি করেন।

কৃষক আবুল হাশেম বলেন, ইউপি সদস্য (মেম্বার) তোফায়েল আহাম্মদ ও স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের উপস্থিতিতে আমার কাছ থেকে প্রথমে ৪৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে আবার তিনি অফিস সহকারী শামছুল আলমের মাধ্যমে ফের ৪০ হাজার টাকা নেন। এখন বাকি টাকার জন্য আজ-কাল-পরশু বলে টালবাহানা করেন।

ইউপি সদস্য (মেম্বার) তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, আমার উপস্থিতিতে কিছু টাকা লেনদেন হয়েছে তা সত্য। বিষয়টি আমাদের মধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে আবুল হাশেমকে খতিয়ান বুঝিয়ে দেয়া হবে।

তহশিলদার শামছুল ইসলাম মানিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি নিজের হাতে কোনো টাকা নেয়নি। এ বিষয়ে কেউ টাকা লেনদেন করেছে কিনা- তা আমি অবগত নয়।  কৃষকের জমির জমা-খারিজ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসেনের মোবাইল ফোনে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কাজল কায়েস/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।