নদীগর্ভে বিলীনের পথে বাইতুল মামুর মসজিদটি


প্রকাশিত: ০৪:২২ এএম, ২৫ আগস্ট ২০১৬

রাজবাড়ীর বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা এলাকার বাইতুল মামুর জামে মসজিদটি দীর্ঘ ৪০ বছরের পুরাতন। মসজিদটি আজ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম।

বাইতুল মামুর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মাস্টার আক্ষেপের সুরে বলেন, এ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি আমাদের আশ্বস্ত করেনি যে আপনাদের মসজিদটি রক্ষা করবো। তবে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আমরা মসজিদের গাছ বিক্রি করেছি যা দিয়ে আমরা অন্য জায়গায় কিছু জমি কিনে মসজিদটি স্থানান্তর করার চেষ্টা করছি।

Rajbari

তিনি আরো জানান, ১৯৭৭ সালে মসজিদটি রেজিস্ট্রেশন হয়। সেই থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাটি ভরাট করে একটি টিনের ছাপরা তৈরি করে নামাজ পড়া শুরু করি। এরপর একে একে মসজিদের বাউন্ডারি, ঈদগা ও এলাকার বাচ্চাদের কোরআন শিক্ষার জন্য মক্তব তৈরি করা হয়। নদী ভাঙন থেকে এ মসজিদটি রক্ষা করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মসজিদ কমিটি। তাছাড়া এখনো তারা আশায় আছেন মসজিদটি রক্ষা করতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, গত বছর থেকে ভয়াবহ নদী ভাঙন শুরু হয় আর এবার ১৫ থেকে ২০ দিনের ভাঙনে এলাকার প্রায় ২/৩শ বসতবাড়ি, প্রায় দুইশ বছরের পুরাতন ভবন, স্কুল, কবরস্থান, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি মসজিদ, মাদরাসা, ফসলি জমি ও অন্যান্য বসতবাড়িসহ নদী রক্ষাকারী বাঁধ হুমকির মুখে রয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে মসজিদ বাড়িঘর তো দূরের কথা বাঁধটাই থাকবে না।

Rajbari

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলা সদরের বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা বাইতুল মামুর জামে মসজিদটি নদী থেকে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ ফিট দূরে রয়েছে। নদীতে স্রোতের কারণে ভাঙনে তীব্রতা এতোই বেশি যে এলাকাবাসী আশঙ্কায় রয়েছেন কখন কি হয়। তাছাড়া মাটিতে বড় বড় ফাটলের চিহ্ন রয়েছে। মসজিদ কমিটিসহ এলাকাবাসীর দাবি, এখনো সময় আছে মসজিদটি রক্ষা করার। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট দফতরসহ সরকারের হস্তক্ষেপ কমনা করেন।

বরাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মনিরুজ্জামান জানান, পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আমার ইউনিয়নে শত শত বসতবাড়ি, শত বছরের পুরাতন ভবন, স্কুল, কবরস্থান নদীতে চলে গেছে। মসজিদ, মাদরাসা, বসতবাড়ি ও নদী রক্ষাকারী বাঁধে পানির ঢেউ লেগে ক্ষতি হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই ভাঙন রোধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

রুবেলুর রহমান/এসএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।