স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে যুবকের ফাঁসি
বগুড়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার নাফিজ সিয়ামকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও হত্যার অভিযোগে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক হাফিজুর রহমান বুধবার বিকেলে এই রায় দেন।
নিহত সিয়াম বগুড়া সদরের পুরান বগুড়া এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক বেল্লাল রহমানের ছেলে এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত যুবক সিয়ামের প্রতিবেশী আল আমিন ওরফে সোহাগ (২০)।
আদালতে সিয়ামের বাবা বেল্লাল রহমান জানান, ২০১৪ সালের ১৭ মে বিকেলে বাসার সামনে থেকে সিয়ামকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর ওই রাতেই অপহরণকারী যুবক মোবাইল ফোনে জানায় সিয়ামকে অপহরণ করা হয়েছে। ৩ লাখ টাকা মুক্তিপন না দিলে তাকে হত্যা করা হবে। এরপর ৮০ হাজার টাকায় দফারফা করে টাকা পরিশোধ করা হলেও সিয়ামকে ফেরত দেয়া হয়নি।
ঘটনার একদিন পর প্রতিবেশী মাদকাসক্ত যুবক আল আমিন ওরফে সোহাগ (২০) এর বাসায় সিয়ামের এক সহপাঠি সিয়ামের ব্যবহৃত স্যান্ডেল দেখতে পায়। এরপর পুলিশকে জানানো হলে সোহাগকে গ্রেফতার করে তারা। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সরকার পক্ষের আইনজীবী খায়রুল বাশার নিলুজ জানান, বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ এর বিচারক সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে সিয়ামকে হত্যা, মুক্তিপণ দাবি, অপহরণ ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে ৪টি ধারায় সাজা প্রদান করেছেন।
এরমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার জন্য ফাঁসির আদেশ, মুক্তিপণ দাবির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অপহরণ করার জন্য ১০ বছর কারাদণ্ড ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে আরো ৩ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন তিনি।
পাশাপাশি আসামি পক্ষ ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল না করলে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, বগুড়া সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে আদালত সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
এফএ/এমএস