তৌফিক স্যারের জন্য কাঁদছে ক্যাম্পাস
তৌফিক স্যারের জন্য কাঁদছে ক্যাম্পাস। ছাত্র-শিক্ষক সকলের প্রিয়জন ছিলেন এই ব্যক্তিটি। সদালাপী সাদাসিদে জীবনযাপন করা এই মানুষটির নির্মম মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না কেউই।
ঈদের ছুটিতে স্বপরিবারে বান্দরবানে অবকাশ যাপন করতে গিয়ে ঝরনায় গোসলে নেমে মৃত্যু হয় তার। বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন মো. তৌফিক সিদ্দিকী।
শনিবার বেলা ২টার দিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার রিজুক ঝর্ণায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন তিনি। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ডুবুরি দল সন্ধ্যা থেকে উদ্ধার অভিযান চালালেও রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ডুবে যাওয়া দেড়শ গজের মধ্যেই অধ্যাপক সিদ্দিকীর মরদেহ পাওয়া যায়।
ঈদ অবকাশে সঙ্গী হয়েছিলেন তৌফিক সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নওগাঁ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান মোহসিন কবির। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ঈদের অবকাশ ছুটি কাটাতে তারা স্বপরিবারে বান্দরবান বেড়াতে যান। তৌফিক সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী-মেয়ে। সবাই উঠেছিলেন বান্দরবন জেলা শহরের একটি মোটেলে। শনিবার জেলা শহর থেকে রুমা উপজেলার রিজুক ঝর্ণা দেখতে যান। সেখানে গোসল করতে নেমে প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারান তৌফিক সিদিকী।
আজিজুল হক কলেজর বাংলা বিভাগের ছাত্র আব্দুল মতিন, আমিনুল ও রাহাত জানান, স্যার ছিলেন অতি সাধারণ একজন মানুষ। একজন অধ্যাপক হবার পরেও তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে মিশতেন বাবার মতো। বন্ধুর মতো। তার এমন মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
শিক্ষার্থী রুমানা হক, ফাওজিয়া মোহসিন ও নুসরাত জানান, আমাদের একজন বড় অভিভাবক আজ থেকে হারিয়ে গেলো। টেলিভিশনে সংবাদ দেখার পর সৃষ্টিকর্তার কাছে কতো চাইলাম তাকে জীবিত উদ্ধার হোক। কিন্তু চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আমরা তার এই মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ সামস-উল আলম বলেন, তৌফিক সিদ্দিকীর গ্রামের বাড়ি বাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তিনি রাজধানীর নওয়াবপুর হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। এরপর বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান করলেও তার পরিবার থাকতেন ঢাকায়।
চাকরির কারণে তিনি থাকতেন বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি বহুতল ভবনে। তার স্মরণে রোববার কলেজে শোক প্রস্তাবসহ নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে।
এআরএ/এবিএস