স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে যুবক হত্যার অভিযোগ


প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ০১ নভেম্বর ২০১৬

দিনাজপুরে তৈয়বা মজুমদার ব্লাড ব্যাংকে (টর্চার সেল) স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইয়াবার চালানকে কেন্দ্র করে ওই যুবককে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।

নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম সদর উপজেলার ৫ নং শশরা ইউনিয়নের মহতুল্লাপুর গাজার মারি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, মঞ্জুরুল ইসলাম একজন ট্রাক হেলপার। কয়েকদিন আগে তিনি সদর উপজেলার খোদমাধবপুর গ্রামের মির্জা মামুনের ট্রাকের হেলপার হিসেবে চট্রগ্রামে যান। সেখান থেকে আসার সময় রাস্তায় ট্রাকের চালক নেমে যান। ট্রাকটি নিয়ে মঞ্জুরুল ইসলাম ফিরে আসেন।

গত ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে মঞ্জুরুল ইসলাম বাসায় ফিরেনি। ২৬ অক্টোবর মোবাইল ফোনে জানতে পারেন মঞ্জুরুল ইসলাম দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে গিয়ে তারা মঞ্জুরুল ইসলামের কাছে জানতে পারেন ট্রাকের মালিক মির্জা মামুনের নেতৃত্বে জনৈক তরিকুল, সিরাজুল সালেকিন রানাসহ ৫-৬ জন গত ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে তাকে তুলে নিয়ে যান। এরপর উপশহর ১ নং ব্লকের বেগম তৈয়বা বেগম রেডক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংকে আটকে রেখে সারারাত নির্যাতন করেন।

নিহত মঞ্জুরুল ইসলামের বাবা আব্দুল কাদের ও বোন নাসিমা বেগম জানান, প্লাস দিয়ে মঞ্জুরুল ইসলামের হাতের নখ তুলে ফেলা হয়। দুই হাতে ব্লেড দিয়ে চিরে লবণ ও মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেয়া হয়। এরপর তাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়।

গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব সদস্যরা দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ওদিন র‌্যাব সদস্যরা ক্ষমতাসীন দলের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সিরাজুল সালেকিন রানাকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্লাড ব্যাংকের এক কর্মচারী জানান, ওই প্রতিষ্ঠানে গত বছর থেকে নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় তলার রেস্ট হাউসটি নিজের করে নেন সিরাজুল সালেকিন রানা। সেখানে টেন্ডারবাজি, মাদকখানাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।  
র‌্যাব দিনাজপুর সিপিসি ক্যাম্প-১ এর অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ রাজু জানান, রানার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ অভিযোগ করেনি। তাই জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, মঞ্জুরুল মারা যাওয়ার ঘটনা জানার পরপরই তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলেই বিষয়টি ঠিকভাবে বোঝা যাবে। তিনি জানান, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে মামলা করা হবে। তাছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, অপরাধী যে হোক তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। ওই পরিবারকে মামলা সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে সহায়তা করা হবে।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।