ফেসবুক কার্যক্রমে এগিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ফেসবুক। দিন দিন ইন্টারনেট আর স্মার্টফোনের সহজলভ্যতায় বাড়ছে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। এ কারণে সবার কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে ফেসবুক। এই মাধ্যমটিকে এখন সরকারিভাবেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এজন্য সরকারের সকল পর্যায়ের কর্তাদের ফেসবুক ব্যবহার করার আহ্বান করা জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও।
এদিকে সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে আসেন ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া। তিনি লাইভে থেকে অনেকের প্রশ্নে উত্তর দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ফেসবুক এখন ব্যবহার হচ্ছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দফতরে। এর মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে অনেকই প্রতিকারও পাচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নয়টি থানার মধ্যে সদর মডেল থানা পুলিশ অনেকইটাই আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে। সদর মডেল থানা পুলিশের রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং পাবলিক রিলেশন বা জনসংযোগ (পিআর) শাখা।
মূলত সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমানের উদ্যোগেই পিআর ও আইসিটি শাখা চালু করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় সদর মডেল থানায় প্রবাসী সহায়তা শাখা নামে নতুন একটি শাখা খোলা হয়েছে। এই শাখার সেবা প্রত্যাশীদের জন্য একটি ফেসবুক পেজও খুলে দেয়া হয়েছে।
প্রবাসীরা সদর মডেল থানা পুলিশের ওই প্রবাসী সহায়তা শাখা অথবা ফেসবুক পেজে তাদের অভিযোগ বা সমস্যাগুলোর কথা জানালে সেগুলো সমাধানে কাজ করবে পুলিশ।
সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশের বেশিরভাগ কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনার জন্য গত ১৮ আগস্ট সদর মডেল থানায় আইসিটি ও পিআর নামে নতুন দুটি শাখার উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান। আইসিটি শাখার আওতায় সিডিএমএস’র (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) মাধ্যমে সকল অপরাধীদের ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে যে কোনো মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল তথ্যাদি কম্পিউটারের মাধ্যমে টাইপ করে লেখা হয়ে থাকে।
এছাড়া গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার্থে পিআর শাখা খোলা হয়েছে। পিআর শাখার মাধ্যমে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রদানসহ তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদের তথ্য সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অন্যদিকে, প্রবাসীদের সহায়তা প্রদানের জন্য গত ২৫ অক্টোবর সদর মডেল থানায় প্রবাসী সহায়তা শাখা নামে নাতুন আরও একটি শাখার উদ্বোধন করা হয়। এ শাখার আওতায় প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানকল্পে একটি ফেসবুক পেজ খুলে দেয়া হয়েছে Help Desk Brahmanbaria Sadar Model Thana নামে। ওই পেজে প্রবেশ করে প্রবাসীরা তাদের নিজেদের অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এখন থেকে এবং সমাধান শেষে ফেসবুকের মাধ্যমেই তাদেরকে ফিডব্যাক দেয়া হবে।
এছাড়া একটি ডেডিকেটেড ডাটাবেজে সকল প্রবাসীদের নাম-ঠিকানাও সরক্ষণ করাও হবে এ শাখার কাজ। প্রবাসী শাখার মাধ্যমে যে কেউ প্রবাসে যেতে চাইলে তাকে সব ধরনের তথ্য দিয়েও সহায়তা করা হবে।
এ শাখার জন্য একটি ফোন নম্বরও দেয়া হয়েছে। +৮৮০১৭২১১২২২২৬ নম্বরে ফোন করেও প্রবাসীরা সরাসরি তাদের অভিযোগগুলো জানাতে পারবেন।
কাজ থেকে একটু ফুরসত পেলেই ফেসবুকে সক্রিয় হয়ে পড়েন ওসি মঈনুর রহমান। তিনি ফেসবুকেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনেন। ফেসবুকের মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কালোবাজারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ওসি।
এছাড়া সদর মডেল থানা পুলিশ এবং ওসির ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কেউ তাদের সমস্যার কথা লিখে সেটি ট্যাগ করলে সেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাকি আট থানাসহ দেশের সকল থানায় আইসিটি, পিআর ও প্রবাসী সহায়তা শাখা খুলে সাধারণ মানুষকে আধুনিক সেবা প্রদানের জন্য সদর মডেল থানা অনুকরণীয় হতে পারে বলেও অভিমত প্রযুক্তিবান্ধব ওসি মঈনুর রহমানের।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা এখন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুপার হাইওতে আছি। আমি যোগদানের পর থেকেই সদর মডেল থানাকে ডিজিটালাইজড করার চিন্তা করছিলাম। সেই চিন্তা থেকেই সদর মডেল থানায় আইসিটি ও পিআর শাখা চালু করা হয়েছে।
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা এলাকায় অনেক প্রবাসী রয়েছেন, তারা প্রায়ই ফেসবুকে ও মুঠোফোনে আমাকে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। এসব প্রবাসীদের সহায়তা দিতেই পুলিশ সুপারের সহযোগিতায় প্রবাসী সহায়তা শাখা চালু করা হয়েছে। এই প্রবাসী সহায়তা শাখার মাধ্যমে একটি ডেডিকেটে ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা আওতাধীন এলাকার যত প্রবাসী রয়েছেন তাদের সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো দিয়ে মানুষের সঙ্গে অনেক বেশি যুক্ত থাকা যায়। দেশ এখন ডিজিটাল, সদর মডেল থানাও তাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষকে আধুনিক সেবা দিচ্ছে।
এমএএস/এমএস