ফেরেনি কপোতাক্ষের যৌবন, দখল হয়েছে খালগুলো


প্রকাশিত: ০৫:০৮ এএম, ০৩ জানুয়ারি ২০১৭

সরকার ২৬২ কোটি টাকা ব্যায়ে খনন কাজ চালালেও সাতক্ষীরা-যশোর ও খুলনা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত এক সময়কার খরস্রোতা কপোতাক্ষ নদের যৌবন ফেরেনি। কালের বিবর্তনে নদ হারিয়েছে তার নাব্যতা ও গতিপথ। দখল দারিত্বের প্রভাব তো ছিল শুরু থেকেই।

তাছাড়া খনন কাজ শেষ হতে না হতেই দুতীরে জেগে উঠা চরগুলো মুহূর্তের মধ্যেই দখল হয়ে গেছে। বিলীন হয়েছে কপোতাক্ষের সঙ্গে যুক্ত থাকা শত শত শাখা।

২০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এ কপোতাক্ষ নদ সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত।

এই নদকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তীরবর্তী লাখো মানুষ। এসব জেলে সম্প্রদায়ের মানুষগুলো এখন যেন অসহায়। অনেকটা নিরুপায় হয়েই জীবন জীবিকার তাগিদে এখন মাছ ধরতে ছুটে যেতে হয় সাগরে।

এমন এক জেলে সাতক্ষীরার তালার গোপালপুর গ্রামের সুকমল বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, কপোতাক্ষের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ভাগ্যের মরণ হয়েছে। এই নদীতেই এক সময় জাল টেনে মাছ ধরতাম। নদীকে কী স্রোত ছিল!

১৫ বছর আগের কথা, এ নদীতে মাছ ধরেই সংসার চলতো আমার মত হাজারো মানুষের। এখন আর নদী নেই তাই সাগরে যায় মাছ ধরতে। সেখানে গেলে দস্যুরা জিম্মি করে। চাঁদা দিয়ে মাছ ধরতে হয়। আবার কখনো সাগরের জোয়ারে ভেসে যেতে হয় আমার কোনো ভাইকে।

sathkhari

দখল দারিত্বের প্রভাবকে কপোতাক্ষের অপমৃত্যুর কারণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে কপোতাক্ষ একেবারেই মৃত্যুর মুখে পড়ে যায়। তীরে জেগে ওঠা চরগুলো মুহূর্তেই দখল হয়ে যায়। সেসময় যদি এগুলো ঠেকানো যেতো তবে কপোতাক্ষের এমন করুণ পরিণতি আমাদের দেখতে হতো না।

খানপুর গ্রামের আব্দুল সামাদ সরদারের ছেলে আব্দুল গফুর সরদার জানান, নদীতো এখন নেই। নামে মাত্র রয়েছে। তীরে থাকা শত শত খালগুলো সব দখল হয়ে গেছে, অনেকটার কিছু চিহ্ন থাকলেও অধিকাংশ খালের চিহ্ন পর্যন্ত নেই। সরকার চাইলেও এসব সরকারি খালগুলো উদ্ধার করতে পারবে না বলে আমি মনে করি।

তালার মহল্লাপাড়া এলাকার কাজী জীবন জাগো নিউজকে বলেন, সরকারের ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ খননের নামে প্রহসন করা হয়েছে। ঠিকাদার শাহিন চাকলাদারেরর সঙ্গে হাত মিলিয়ে তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজের সুষ্ঠু তদারকি না করে বরং ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামে ৬ কোটি টাকার পরিমাণ খনন কাজ পরিচালনা করেছে।

তাছাড়া সরকারি কর্মকর্তারা টাকার বিনিময়ে অবৈভভাবে কপোতাক্ষের জমি ইজারা দিয়েছে। এসব কারণে দখল দারিত্বের প্রভাব বিস্তৃতি লাভ করায় কপোতাক্ষ এখন মৃত।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে কপোতাক্ষের পূর্বের অবস্থায় ফিরে না যাওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফরিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, খনন কাজ পরিচালনার সময় তারা যথযথভাবে কাজটি বুজে নেননি। যেটুকু খনন করার কথা সেটুকুও তারা খনন করেননি।

তবে তিনি বলেন, তারপরও জলাবদ্ধতার হাত থেকে কিছুটা হলেও তীরবর্তী মানুষগুলো রক্ষা পেয়েছে।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।