মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর : চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
লক্ষ্মীপুরে মুক্তিযোদ্ধাকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগে এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সোমবার (০২ জানুয়ারি) রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানায় আহত মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মঙ্গলবার চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজিজুর রহমান মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এতে সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম চৌধুরী ও ইউপি সদস্য হারুন, পরান, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক টিপু সুলতান ও চৌকিদার আবদুল্লাসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক ও অপপ্রচার দাবি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী।
তিনি মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে তার ইউপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ সময় ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ৩১ ডিসেম্বর নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনের কৃষি সম্প্রসারণের জায়গা দখলের চেষ্টা করে। এ বিষয়ে জানতে অপর তিন মুক্তিযোদ্ধার মাধ্যমে নুর মোহাম্মদকে তিনি কার্যালয়ে ডেকে আনেন।
ওই সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জায়গা দখলের কোন অনুমতি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওই মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদকে বাধা দিলে তিনি প্রতিরোধের মুখে কার্যালয়ের দোতলা ভবনের একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে কক্ষের জানালা ভেঙে তুলা গাছ বেয়ে নামতে গিয়ে আহত হন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের কাছে জমা দিয়েছেন।
গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদকে ইউপি কার্যালয়ে ডেকে নেয় এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকার ব্যাপারে তাকে অকথ্য গালমন্দ করেন ইউপি চেয়ারম্যান।
এ সময় তিনি প্রতিবাদ জানালে সকল বিবাদীরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। এক পর্যায়ে তাকে ইউপি কার্যালয়ের বাথরুমে আটক করে রাখেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
কাজল কায়েস/এএম/জেআইএম