ভোটে হেরে টাকা উদ্ধার অভিযানে প্রার্থীরা!
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটে হেরে টাকা উদ্ধার অভিযানে নেমেছে বেশ কয়েকজন প্রার্থী। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দেন-দরবার চলছে।
ইতিমধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ডে টাকা ফেরতও নিয়েছেন সদস্য প্রার্থীরা। আর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে ভোট কেনাবেচা ও টাকা লেনদেনের বিষয়টি।
এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শামছুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী হন উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি এক ভোটও পাননি।
ভোটের তিনদিন পর জাহাঙ্গীর চরশাহী ইউনিয়নের ৪,৫, ৬নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য শামছুন নাহারের কাছ থেকে তার ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। ওই ওয়ার্ডে ১১ ভোট পেয়ে পরাজিত আরেক সদস্য প্রার্থী ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের ৪জন সদস্যদের কাছ থেকে।
৯নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাড়ে ৪ লাখ ও আরেক প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আড়াই লাখ টাকা ইতোমধ্যে ভোটারদের (ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার) কাছ থেকে উদ্ধার করেছেন। তারা বাকি টাকা উদ্ধারের জন্য জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ওই প্রার্থীরা তাদের নাম প্রকাশ্যে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাউদ্দিনকে রামগঞ্জে বিজয়ী করার জন্য ৫ লাখ টাকা এবং ঘড়িসহ ৩ লাখ টাকার উপহার সামগ্রী নিয়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুরাইয়া আক্তার শিউলী। এ টাকার উদ্ধার করে দিতে গত কয়েকদিন ধরে রামগঞ্জ উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে ফোনে অনুরোধ করছেন আলাউদ্দিন।
রামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, দায়িত্বশীল হয়ে কিভাবে মহিলা নেত্রী সুরাইয়া আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তা বোধগম্য নয়। সুরাইয়া নগদ ৫ লাখ টাকা ও ঘড়িসহ ৩ লাখ টাকার উপহার সামগ্রী নিয়েছেন। ওই টাকা না পেলে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে আমাকে ফোনে জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুরাইয়া আক্তার শিউলী বলেন, আমি নির্বাচনে কোনো টাকা নেইনি। রাজনৈতিক কারণে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি মহল অপ-প্রচার চালাচ্ছে।
রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান বলেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ভোট করার বিষয়টা দুঃখজনক। আমি নিজেও চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। কেন্দ্র ও জেলার সিনিয়র নেতাদের অনুরোধে দলের বৃহৎ স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। অথচ টাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট করেছেন। এজন্য দলের নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ ব্যাপারে এম আলাউদ্দিনের বক্তব্য জানতে ফোনে চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে জেলা যুবলীগের সদস্য আইনুল কবির তানভীর বলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেত্রী সুরাইয়া আক্তার কথা রাখেনি। টাকা উদ্ধারের জন্য রামগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়,২৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ১৫টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী পদে ১৬ ও সদস্য পদে ৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এতে সাধারণ সদস্য পদে ১৬ জন প্রার্থী কোনো ভোট পাননি। এছাড়া এক নারী সদস্য এক ভোট পেয়েছেন। প্রায় প্রত্যেক ওয়ার্ডেই সদস্য পদে ভোট কেনাবেচা হয়েছে। ভোটারা বেশি পকেট ভারি করেছে ৭নং ওয়ার্ডে।
এ বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমিন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ৭নং ওয়ার্ডে ৫ জন সদস্য প্রার্থীর কাছ থেকে ভোটাররা ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। জিতেছেন একজন, বাকি ৪ প্রার্থী হালখাতা দেন। মেম্বারদের মুখোশ উম্মোচন করেন।
জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ভোটে হেরে কয়েকজন প্রার্থী টাকা উদ্ধারের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে যাচ্ছে বলে আমি শুনেছি। বিষয়টি লজ্জাজনক। ভোটাররা তাদের পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিয়েছেন।
এআরএ/পিআর