ওষুধ ব্যবসায়ী না হয়েও কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক


প্রকাশিত: ১০:৪৪ এএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৭

টাঙ্গাইলে কোনো ধরনের ওষুধের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াই ক্ষমতাবলে কেমিস্ট ও ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং সম্পাদক পদ দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে এর প্রতিবাদে ও নির্বাচন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনের দেয়া লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৯২ সালে টাঙ্গাইল জেলার সকল ওষুধ ব্যবসায়ীকে নিয়ে গঠিত হয় একটি এলোপ্যাথিক ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে কেন্দ্রীয় কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির পরামর্শে এ সমিতির নাম পরিবর্তন করে হয় কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি। সেই সময় একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কোনো কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ার সুযোগ নিয়ে তৎকালীন সময়ের আহ্বায়ক কমিটির ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ভয়ভীতির মাধ্যমে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সভাপতি পদে মনির আহম্মেদ ও সম্পাদক নজরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে তাদের কারও টাঙ্গাইলে কোনো ওষুধের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। এর মধ্যে সমিতি সভাপতির দায়িত্বে থাকা মনির আহম্মেদ বর্তমানে ওষুধ কোম্পানি এশিয়াটিক ফার্মার একজন মালিক। সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলামের একটি দোকান খাজা ফার্মেসিকে ভাড়া দেয়।

এরপর থেকে তারা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিভিন্ন তালবাহানা আর সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন ব্যতিত অবৈধভাবে কমিটি চালিয়ে আসছেন। একইভাবে নির্বাচন ব্যতিত চলে আসছিল কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।

দেশব্যাপী সংগঠনটির নির্বাচন নিয়ে চলমান আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচন হয়। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ৩ মাসের মধ্যে প্রতিটি জেলা কমিটির নির্বাচনের ঘোষণা থাকলেও টাঙ্গাইল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কোন নির্বাচন দিচ্ছে না বর্তমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা নির্বাচনের দাবি করায় বর্তমানে তাদের দোকান অবরোধ করে রাখাসহ অবৈধ ক্ষমতাবলে নামি-দামি ওষুধ কোম্পানির ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছেন এ নেতারা।

এছাড়া ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে ওষুধের গায়ে লেখা মার্কেট রিটেল প্রাইজ আদায়ের নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। এ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ওষুধের গায়ে লেখা মার্কেট রিটেল প্রাইজ না নেয়া দোকান ব্যবসায়ী ২ হাজার টাকা জরিমানা করছেন তারা। নির্বাচিত কোনো কমিটি না হয়েও অদৃশ্য ক্ষমতা আর কেন্দ্রীয় ছত্রছায়ায় তারা এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তারা।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইল মেডিসিন মার্কেটের তার নিজস্ব একটি দোকান খাজা ফার্মেসির কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সুপ্রিম ফার্মাসিটিক্যালের টাঙ্গাইলে ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে ওষুধ সাপ্লাই দিয়ে আসছেন।

তিনি জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি এ সমিতির সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি জেলা সমিতির কার্যক্রম। কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকার কারণে দীর্ঘ ২৫ বছর কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন হয়নি।

ফলে এ জেলা কমিটির নির্বাচনও ছিল বন্ধ। এছাড়া আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক আবু তাহের চৌধুরী ছিলেন ১৯৯৪-২০১১ সাল পর্যন্ত এ সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ১৯৯৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত সম্পাদক ছিলেন আতাউর রহমান জিন্নাহ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মিজান মেডিকেল হলের মালিক আবু তাহের চৌধুরী, সাঈদ মেডিকেল হলের মালিক আবু সাঈদ চৌধুরী, ব্যবসায়ী নেতা আতাউর রহমান জিন্নাহ, রাজু ফার্মেসির মালিক গপিনাথ, ইতি ফার্মেসির মালিক নাসির উদ্দিনসহ বিভিন্ন ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতারা।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।