ঘাটাইলে কাঠের গুঁড়া দিয়ে জর্দা তৈরি


প্রকাশিত: ০৪:০৫ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৭

ভেজাল ও নকল পণ্যের রমরমা ব্যবসা চলছে টাঙ্গাইলে। খাদ্য, প্রসাধনী ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের নকল ব্যবসা কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ আসছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বা কোনো নিষেধাজ্ঞায় তোয়াক্কা করছেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা।

ভেজাল ও হুবহু নকল ব্যবসার প্রসার এখন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে বা কোনো রকমে ম্যানেজ করে তারা চালিয়ে যাচ্ছেন এই ব্যবসা। এর ফলে মোটা অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সরেজমিনে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চোতিলা গ্রামে এই রকম এক নকল কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই গ্রামের
এক বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দেশের নাম করা জর্দা ফ্যাক্টরির মনোগ্রাম ব্যবহার করে বানানো হচ্ছে জর্দা।

বেলপাতা, কাঠের গুঁড়ার সঙ্গে খুবই নিম্নমানের তামাক পাতা ও কেমিক্যাল মিশ্রিত সুগন্ধি দিয়ে বানানো হচ্ছে এই জর্দা। নোংরা পরিবেশে তৈরি করা জর্দা সেখান থেকে বিক্রি হচ্ছে জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে। দেশের স্বনামধন্য রতন ও দরবার ব্র্যান্ডের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে হাজার হাজার নকল কৌটা জর্দা বিক্রির কারখানা এটি।

নকল ওই জর্দা ফ্যাক্টরির মালিক মফেল মিয়া নিজে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নকল এসব জর্দা তৈরি করছেন।

নকল কারখানার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে এটি কোয়ালিটি জর্দা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে জর্দা তৈরির বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। অনুসন্ধান ও কাগজপত্র দেখাতে না পারায় মফেল মিয়া রাগান্বিত স্বরে বলে উঠেন ‘আপনারা যা পারেন কইরেন।’

এ প্রসঙ্গে দরবার জর্দার স্বত্বাধিকারী মশিউর রহমান জানান, ১৯৯০ সাল থেকে তিনি মমো কেমিক্যাল কোম্পানির পণ্য দরবার নামক জর্দা উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছেন। তবে ঘাটাইলের মফিল মিয়া নামে একজন কোনো ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ‘দরবার’ জর্দার ফয়েল প্যাকেট হুবহু অনুকরণ ও নকল করে উৎপাদন এবং বাজারজাত করে আসছেন।

শুধুমাত্র দরবার শব্দের আগে খুবই ক্ষুদ্র আকারে সূর্য শব্দটি সুকৌশলে সংযুক্ত করা হয়েছে মাত্র। এতে করে তার ব্যবসার প্রচুর আর্থিক ক্ষতি-সাধন হচ্ছে। এর ফলে দরবার জর্দার স্বত্বাধিকারী মশিউর রহমান নকল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

পরে সহকারী জজ আদালত ঘাটাইলের সিনিয়র সহকারী জজ মুহাম্মদ আব্দুল হালিম মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দরবার বা সূর্য দরবার শব্দ ব্যবহার করে জর্দা বাজারজাত না করার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের এ নির্দেশ উপেক্ষা করেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন মফেল মিয়া।

আরিফ উর রহমান টগর/এআরএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।