কিছুই জানেন না রসরাজ!
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পুলিশের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের মামলায় আড়াই মাস কারাভোগের পর ছাড়া পেয়েছেন আলোচিত রসরাজ দাস। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে ছাড়া পান।
কারাগার থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রসরাজ দাস বলেন, কারামুক্ত হয়ে অনেক ভালো লাগছে। কতদিন ধরে মা-বাবাকে দেখি না। আজ (মঙ্গলবার) বাড়ি গিয়ে সবাইকে দেখবো, অনেক ভালো লাগছে।
ফেসবুকে ছবি পোস্টের ব্যাপারে তিনি বলেন, ছবির ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আমি এক সপ্তাহ ধরে বিলে ছিলাম। বিল থেকে ওঠে আসার পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৫-৬ জন আমাকে মারধর করে ধরে নিয়ে যান। আামকে কোনো কিছু বলারও সুযোগ দেয়নি। কী অপরাধে আমাকে জেল খাটতে হয়েছে আমি কিছুই জানি না।
তিনি আরও বলেন, সেই ছবিটি আমি এখনো দেখিনি। ছবিটি কে ফেসবুকে ছড়িয়েছে সেটিও আমি জানি না। ঘটনার মাস তিনেক আগে আমার চাচাতো ভাই হৃদয় ফেসবুক আইডিটি খুলে দিয়েছিল। আইডি খুলার পর আমি আর সেটি চালাইনি এবং পাসওয়ার্ড কী জিনিস সেটিও আমি জানি না। ঘরের মধ্যে মোবাইল রেখে আমি বিলে চলে যাই।
জেলা কারাগার থেকে বেরিয়ে মামা ইন্দ্রজিৎ দাস, বড় ভাই দয়াময় দাস ও ভগ্নিপতি নেপাল চন্দ্র দাসের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশা যোগে নিজ বাড়ি নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের পথে রওনা হন রসরাজ।
এর আগে সোমবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো ইসমাঈল হোসেন পরবর্তীয় পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না হওয়া পর্যন্ত রসরাজের জামিন মঞ্জুর করেন।
তবে এদিন জামিন সংশ্লিষ্ট কাজগপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না পৌঁছানোয় ছাড়া পাননি তিনি। পরে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালত থেকে জামিন সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়।
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে পবিত্র কাবা শরিফকে ব্যঙ্গ করে ছবি পোস্টের অভিযোগে গত বছরের ২৯ অক্টোবর নাসিরনগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাওছার হোসেন বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন।
পরদিন ৩০ অক্টোবর এ মামলায় রসরাজকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। রসরাজ নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হড়িণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাস (৩০)।
পরে ৮ নভেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে রসরাজের জামিনের শুনানি হয়। তবে ওই সময় আদালত রসরাজের জামিন নামঞ্জুর করেন। এরপর ২ ডিসেম্বর জামিন আবেদনের পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত শুনানি শেষে ৩ জানুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন আদালত রসরাজের উপস্থিতিতে জামিন শুনানির জন্য ১৬ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এদিন রসরাজের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
আজিজুল সঞ্চয়/এএম/পিআর